📌 ঢাকার একটি আদালতে সাংসদ গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা মামলায় রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালতে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন নজরুল, কাঁদছিলেন স্ত্রী। বিচারক চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন নজরুলের, একদিনের মাকছুদার
বিকেল তিনটা বেজে ছয় মিনিটে পুলিশের নিরাপত্তায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পঞ্চম তলায় ৮ নম্বর কাঠগড়ায় উপস্থিত হন সাংসদ গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫) ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম (৬৫)। তাদের হাতে হাতকড়া না থাকলেও মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো ছিল। বিচারক এজলাসে না থাকা অবস্থায় নজরুল তার আইনজীবীর সাথে আলাপ করছিলেন। বিচারক উপস্থিত হলে মামলার নাম ঘোষণা করা মাত্র নজরুল মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে পড়েন। তার পেছনে দাঁড়িয়ে কান্না করতে দেখা যায় স্ত্রী মাকছুদাকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিকেল ৩টা ৬ মিনিটে পুলিশের নিরাপত্তায় সাংসদ নজরুল ও তার স্ত্রীকে ৮ নম্বর আদালতের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো ছিল।
- 📌 মামলার নাম ঘোষণা করা মাত্র নজরুল মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে পড়েন, স্ত্রী মাকছুদা কান্না করতে শুরু করেন।
- 📌 রিমান্ড আবেদন করে তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা থানার এসআই শামসুজ্জোহা সরকার বলেন, মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় নজরুল ও তার স্ত্রীর প্রভাব থাকতে পারে।
- 📌 আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জামিনের দাবি করে বলেন, নজরুল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চারবারের এমপি, মামলায় তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
- 📌 রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, নজরুল মরিয়ম খাতুনকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন, তার মৃত্যুর পিছনে তার প্রভাব আছে।
- 📌 বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে বিচারক মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন নজরুলের, একদিনের মাকছুদার।
- 📌 কাঠগড়া থেকে নামানোর সময় নজরুল বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না’।
📰 বিস্তারিত
বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে পুলিশ হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দেয়। বিচারক এজলাসে উপস্থিত হলে আদালতের পেশকার মামলার নাম ঘোষণা করা মাত্র নজরুলের মাথা নিচু হয়ে যায়। তার পেছনে দাঁড়িয়ে কান্না করতে দেখা যায় স্ত্রী মাকছুদাকে। শুনানির বেশিরভাগ সময় নজরুল মাথা নিচু করে ছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা সরকার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় নজরুল ও তার স্ত্রীর প্রভাব থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই আত্মহত্যার ঘটনায় তাঁদের প্রভাব আছে কি না তা উদঘাটনের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘আসামি একজন মাননীয় সংসদ সদস্য। তিনি ও তাঁর স্ত্রী বয়স্ক ব্যক্তি। এই মামলায় তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, নজরুল মরিয়ম খাতুনকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। তিনি বলেন, ‘এটা তাঁর (মরিয়ম) মৃত্যুর আগে লেখা চিরকুটের মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায়। দীর্ঘদিনের এই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পারার কারণেই তাঁর এই পরিণতি।’
এ সময় বিচারক পিপিকে থামিয়ে বলেন, ‘আমরা এই মামলার প্রসঙ্গে থাকি। রাজনীতিতে না যাই।’ পিপি বলেন, ‘আমি এটাই বলতে চাচ্ছি যে, তারা সব সময় সৎ লোকের শাসনের কথা বলে। কিন্তু এটা হচ্ছে সেই নমুনা যা আমরা দেখতে পাচ্ছি।’
বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে বিচারক মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন নজরুলের, একদিনের মাকছুদার। আদালতের আদেশের পর নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে কাঠগড়া থেকে নামানোর সময় নজরুল বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন জানি না।’
"আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, পঞ্চম তলা, ৮ নম্বর আদালত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫), মাকছুদা ইসলাম (৬৫), শামসুজ্জোহা সরকার (এসআই), মাহবুবুর রহমান, ওমর ফারুক ফারুকী, বিচারক মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩:০৬ (বিকেল), ৮ (আদালত নম্বর), ৭৫ (নজরুলের বয়স), ৬৫ (মাকছুদার বয়স), ৩১ (মিনিট), ৩৪ (মিনিট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!