📌 মহানগর দায়রা আদালত নাসার গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও স্ত্রী নাসরিন ইসলামের নামে যুক্তরাজ্যের জার্সিতে ৮৫ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছে। দুদকের তদন্তে নজরুলের পরিবার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে ৩৫ হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার ও ব্যাংক ঋণ আত্মসাৎের অভিযোগ উঠেছে
মহানগর দায়রা আদালত নাসার গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামের নামে যুক্তরাজ্যের জার্সিতে অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবিরের নির্দেশে যুক্তরাজ্যের জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’ নামে প্রায় ৫৩ লাখ পাউন্ড (৮৫ কোটি টাকা) অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এই নির্দেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮৫ কোটি টাকা অবরুদ্ধ: নজরুল ইসলাম মজুমদার ও স্ত্রী নাসরিন ইসলামের নামে যুক্তরাজ্যের জার্সিতে অবস্থিত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ
- 📌 ৫৩ লাখ পাউন্ড (৮৫ কোটি টাকা) জমা ছিল ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’-এর ইউবিএস ব্যাংক হিসাবে
- 📌 ২৬টি ব্যাংক থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদক তদন্ত করছে
- 📌 অবৈধ সম্পদ অবরুদ্ধের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কারণ নাসরিন ইসলাম সম্পত্তি স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন
- 📌 ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নজরুল ইসলামকে কারাগারে আটক করা হয়
📰 বিস্তারিত
দুদকের আবেদনে জানা গেছে, ‘ওয়ান ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের ১৭ মে আইল অব ম্যানে নিবন্ধিত হয়েছিল। একই বছরের ২ অক্টোবর জার্সির ইউবিএস ব্যাংকে এই প্রতিষ্ঠানের নামে হিসাব খোলা হয়। দুদকের তদন্তে দেখা গেছে, নজরুল ইসলাম মজুমদার, তাঁর পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থের একটি অংশ যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি ও হংকংয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং এনবিআর-এ আয়কর বিবরণীতে সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে। নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দুটি অর্থপাচার মামলা, দুটি ক্ষমতার অপব্যবহার মামলা ও দুটি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট দায়ের করা একটি অর্থপাচার মামলায় ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
দুদকের তদন্তে জানা গেছে, নাসরিন ইসলাম তাঁর নামীয় স্থাবর সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। আদালত মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই সম্পত্তি স্থানান্তর বা রূপান্তর হলে তা রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে বলে উল্লেখ করেছে। এই নির্দেশের মাধ্যমে নাসার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
"মামলার আসামি নাসরিন ইসলাম তাঁর নামীয় স্থাবর সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই যদি এই অবৈধ সম্পত্তি স্থানান্তর বা রূপান্তর হয়ে যায়, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার মহানগর দায়রা আদালত, যুক্তরাজ্যের জার্সি, আইল অব ম্যান, হংকং
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলাম, বিচারক মো. শাহজাহান কবির, রিয়াজ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৫ কোটি টাকা, ৫৩ লাখ পাউন্ড, ২৬টি ব্যাংক, ৩৫ হাজার কোটি টাকা, ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!