📌 সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাসের পর বাবা-মা ও কন্যাসন্তানের মধ্যে নতুন আশা ও দ্বন্দ্বের কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তি। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার রাখতে পারবেন। তবে বিরোধী দল ও ধর্মীয় সংগঠন আইনকে শরিয়তবিরোধী বলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাসের পর বাংলাদেশের বাবা-মা ও কন্যাসন্তানের মধ্যে নতুন আশা ও দ্বন্দ্বের কথা উঠে এসেছে। রাজশাহীতে বসবাসকারী এক নারীর কথা জানায় যে, তিনি ও তার বোনদের বাবা জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে আত্মীয়-স্বজনদের ভয় ও উদ্বেগের কারণে তিনি এ বিষয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী অনুযায়ী, দাতা জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার রাখতে পারবেন।
- 📌 রাজশাহীতে বসবাসকারী এক নারী জানান, বাবা-মা কন্যাসন্তানের সম্পত্তি দান করলেও তাদের সেবা করার দায়িত্ব কে নেবে?
- 📌 বিরোধী দল ও ধর্মীয় সংগঠন আইনকে শরিয়তবিরোধী বলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে।
- 📌 আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার রাখতে পারবেন এবং আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
- 📌 ঢাকাতে বসবাসকারী এক বাবা জানান, সংশোধনী পাসের পর তিনি মেয়েদের বেশি সম্পত্তি দান করতে পারবেন এবং নিজের জীবদ্দশায় ভোগের অধিকার রাখতে পারবেন।
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীতে বসবাসকারী এক নারী জানান, তাঁর বাবা তাঁর ও তাঁর বোনদের নামে হেবা (জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান) করেছেন। তবে আত্মীয়-স্বজনদের ভয় ও উদ্বেগের কারণে তিনি এ বিষয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁর মতে, কন্যাসন্তানের পিতা-মাতার সম্পত্তির ভাগীদার থাকলেও তাদের সেবা করার দায়িত্ব কে নেবে? তিনি বলেন, “আমাদের কোনো ভাই নেই। এ কারণে আমার বাবা আমার ও আমার বোনদের নামে হেবা করেছেন। তবে আমার বাবার এ সিদ্ধান্তে মোটেও খুশি নন আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা। এমনকি সম্পত্তি দিয়ে দিলে মেয়েরা পরে আর মা-বাবাকে দেখবে না, স্বজনেরা এমন ভয় দেখাচ্ছেন। এতে বাবাও কিছুটা উদ্বিগ্ন।”
এই নারীর মতে, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হওয়ার পর তিনি কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, “মেয়েদের সম্পত্তি দান করলেও ভোগের অধিকার থাকবে। আবার আইন হওয়ায় আত্মীয়স্বজনেরাও জোর করতে পারবেন না। এটা মন্দের ভালো বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি চান রাষ্ট্র এমন আইন করুক যেখানে কন্যাসন্তান তাঁদের প্রাপ্য সহজে পেতে পারে।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও ব্যক্তি আইনের সংশোধনীর বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলছেন এটি শরিয়তসম্মত নয়। তারা বলেছেন, প্রত্যাহার না করলে আন্দোলন জোরদার করা হবে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাবা-মা অসহায় হয়ে যাচ্ছেন শেষ বয়সে। সম্পত্তি ছেলেমেয়েরা লিখে নিলেও বাবা-মাকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রেই আইনটি প্রযোজ্য হবে। কেউ যদি তাঁর ধর্ম অনুসারে চলতে চান, সেখানে আইন বাধা হবে না। এটা যাঁর ইচ্ছা করতে পারবেন। এই আইনকে একটা অপশন হিসেবে রাখা হয়েছে। আইনের ১২২ (এ)-এর চার ধারায় সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, শুধু হেবা না, অন্য ধর্মের যে পারসোনাল ল আছে সেটি সুরক্ষিত থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীন বলেছেন, মা-বাবা চাইলে ছেলে-মেয়েকে সম্পত্তি লিখে দিতে পারেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, সন্তান ভবিষ্যতে তাঁর ভরণপোষণ করবে কি না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, ঢাকা, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, নারী (রাজশাহী), বাবা (ঢাকা), তাসলিমা ইয়াসমীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ সেপ্টেম্বর, ৮ সেপ্টেম্বর, আইনের ধারা ১২২ (এ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!