📌 পাবনা সদরে ১০ বছর বয়সী একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার পর প্রধান আসামির বাড়ি ভাঙচুরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। জনতা জুমার নামাজের পর বাড়িতে হামলা চালায়, পুলিশের সংখ্যা কমে বাধা দেয়নি। আসামি দুজন বর্তমানে কারাগারে বন্দি
পাবনা সদরে ১০ বছর বয়সী একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার পর প্রধান আসামির বাড়ি ভাঙচুরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে স্থানীয় জনতা বাড়িতে হামলা চালিয়ে অবকাঠামোকে কঙ্কালে পরিণত করেছে। ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল, কিন্তু গ্রামবাসীর তুলনায় তাদের সংখ্যা কম থাকায় বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ বছর বয়সী শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ি ভাঙচুরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পাবনা সদরে
- 📌 জুমার নামাজের পর স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে মালামাল ভাঙচুর করে, ছাদ ভাঙতে দেখা যায়
- 📌 ৯ সেপ্টেম্বর শিশুটি নিখোঁজ হয়, ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়
- 📌 গ্রেপ্তার দুজন আসামি হলেন মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও ইয়াছিন আলী (২১), উভয়েই হত্যা ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন
- 📌 আসামিরা শিশুটিকে হত্যার আগে মুদিদোকানের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করেন, পরে লাশটি খণ্ড করে ডোবায় ফেলেন
📰 বিস্তারিত
৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে শিশুটি তার বাবার সঙ্গে স্থানীয় বাজারে যায়। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরে ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে সে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে শিশুটির স্যান্ডেল পাওয়া যায়। ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর শিশুটির সন্ধান চেয়ে জেলা শহরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন শিশুটির স্বজন, সহপাঠী ও পাড়া-প্রতিবেশীরা। পরের দিন সকালে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তায় ভরা শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
ময়নাতদন্তে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। আসামি দুজন বর্তমানে কারাগারে বন্দি। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসামি মোস্তফা প্রামাণিক মুদিদোকানের পেছনে শিশুটিকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনা আড়াল করতে তারা লাশটি খণ্ড করে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজন জনতার ভাষ্য, “শিশুকে যাঁরা ধর্ষণ করে হত্যা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দেখতে চান এলাকাবাসী। দেশে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হওয়া দরকার, কিন্তু শাস্তি হয় না। কোনো ধর্ষণেরই দৃশ্যমান বিচার হয় না। তাই ধর্ষণে জড়িত আসামির কোনো চিহ্ন তাঁরা রাখতে চান না।”
"জুমার নামাজ শেষে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ওই বাড়ির সামনে আসতে শুরু করেন। এরপর তাঁরা একত্র হয়ে বিক্ষোভ করেন। বাড়িতে থাকা লোকজন পুলিশের সহযোগিতায় পালিয়ে যান। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করেন। বাড়ির আসবাব থেকে শুরু করে দেয়াল পর্যন্ত ভেঙে ফেলেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা সদর, পাবনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫), ইয়াছিন আলী (২১), শিশুশিক্ষার্থী (১০), ওসি তরিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর বয়সী শিশু, ৯ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ, ১৬ সেপ্টেম্বর লাশ উদ্ধার, ২০০ গজ দূরে স্যান্ডেল পাওয়া যায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!