📌 ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে সোমবার অগ্নিকাণ্ডে চারজন নিহত হয়েছেন। সিঁড়ি তালাবদ্ধ থাকায় রোগী ও স্বজনরা বের হওয়ার সময় পদদলনে আহত হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের দাবি করলেও নিহতদের পরিবার অভিযোগ করেছে অব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্ব
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে সোমবার বিকেলে অগ্নিকাণ্ডে চারজন নিহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটিতে ছিল তালা, ফলে রোগী ও স্বজনরা বের হওয়ার সময় পদদলনে আহত হন। এই দুর্ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও সিঁড়ি তালাবদ্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহ মেডিকেলের নতুন ভবনে সোমবার বিকেলে অগ্নিকাণ্ডে চারজন নিহত
- 📌 পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটিতে ছিল তালা, বের হওয়ার সময় পদদলনে আহত হন চারজন
- 📌 নিহতদের মধ্যে ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান মনির (৪৫), রমজান আলী (৩৮), কুলসুম আক্তার (৩৫) ও নেত্রকোনার হাজেরা বেগম (৫০)
- 📌 হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তালা বন্ধ রাখার স্বীকার করে, কিন্তু মৃত্যুর দায় অস্বীকার করে
- 📌 তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে
📰 বিস্তারিত
গত সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলায় ১১ নম্বর লিফটে অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া ও আগুন। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন চিকিৎসাধীন রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও কর্মচারী। সিঁড়ির চারটি গেট তালাবদ্ধ থাকায় রোগী ও স্বজনরা বের হওয়ার সময় পদদলনে আহত হন।
নিহতদের মধ্যে ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান মনির (৪৫), রমজান আলী (৩৮), তারাকান্দার কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০)। তাদের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, জরুরি মুহূর্তে সিঁড়ি তালাবদ্ধ থাকায় বাঁচার কোনো সুযোগ ছিল না। শাহজাহান মনিরের স্ত্রী হারিসা বেগম বলেন, ‘আগুনের খবর পেয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে যান তিনি। পরে ভিড়ের মধ্যে শাহজাহান মারা যান।’
অগ্নিকাণ্ডের সময় ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শেরপুরের সালমা আক্তারের সাত বছর বয়সী শিশু আলিফের মা বলেন, ‘আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে একপর্যায়ে মনে হয়েছিল, আমি ও আমার সন্তান বাঁচবো না। পরে অন্যের সহায়তায় সিঁড়ির তালা ভেঙে বের হয়ে আসতে হয়।’
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘অগ্নিদুর্ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। যারা মারা গেছে, অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিলেই সবকিছু প্রকাশ্যে আসবে।’
"যে কয়েকটি কেঁচি গেট ছিল, একটি ছাড়া সব বন্ধ পাই। তাই স্ত্রী আর আমি বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কারণ ঘটনার কিছুক্ষণ আগে স্ত্রীর অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল। দুর্ঘটনার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং গণপূর্ত বিভাগ কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না।"
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সকল সিঁড়ির গেট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিহতদের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, জরুরি সময়ে সিঁড়ি তালাবদ্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নতুন ভবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহজাহান মনির (৪৫), রমজান আলী (৩৮), কুলসুম আক্তার (৩৫), হাজেরা বেগম (৫০), ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ (নিহত), ৪ (সিঁড়ি তালা), ১১ (লিফট নম্বর), ৬:২০ (আগুন নিয়ন্ত্রণ সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!