📌 কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের কবর খুঁড়ে তার দেহাবশেষ দরবার শরিফে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ তদন্তে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। পীরের মৃত্যুর প্রায় পাঁচ মাস পর এই ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের কবর খুঁড়ে তার দেহাবশেষ দরবার শরিফে নিয়ে যাওয়া হয়। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় শামিমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ও প্রশাসন তদন্তে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে উত্তেজনা এড়াতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দৌলতপুর থানায় মামলা: পীর শামিমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
- 📌 কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরানো: ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম কবরস্থান থেকে শামিমের দেহাবশেষ তুলে দরবার শরিফে নিয়ে যাওয়া হয়।
- 📌 পুলিশ তদন্ত: পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছে, তা শনাক্তের চেষ্টা করছে।
- 📌 অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন: দেহাবশেষ পুনরায় দাফনের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
- 📌 পীরের মৃত্যুর পরের ঘটনা: শামিম হত্যার প্রায় পাঁচ মাস পর এই ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
📰 বিস্তারিত
গত শুক্রবার রাতের কোনো একসময় ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান থেকে পীর শামিমের দেহাবশেষ তুলে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘শামিমি বাবার দরবার শরিফে’ নিয়ে দাফন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শনিবার সকালে শামিমের পরিবার জানতে পারেন এই ঘটনা। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে খোঁড়া নতুন কবর থেকে শামিমের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পরে প্রশাসনের নির্দেশে দরবার শরিফ প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন করে আগের কবরস্থানেই পুনরায় দাফন করা হয়।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, পুরোনো কবর খুঁড়ে দেখা যায়, সেখানে শামিমের দেহাবশেষ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরবারে থাকা দেহাবশেষ উদ্ধার করে মূল কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কবর থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পায়। পরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় দরবার শরিফ প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন করে আগের কবরস্থানেই পুনরায় দাফন করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছে, তা শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে।
ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, দেহাবশেষ পুনরায় দাফনের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছিল, তা তদন্ত করে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দেলোয়ার হোসেন আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি পাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে পরিবার এ কাজ বাস্তবায়ন করবে।
"পুরোনো কবর খুঁড়ে দেখা যায়, সেখানে শামিমের দেহাবশেষ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরবারে থাকা দেহাবশেষ উদ্ধার করে মূল কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে।"
প্রদীপ কুমার দাশ, দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা, ফিলিপনগর ইউনিয়ন, দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান, শামিমি বাবার দরবার শরিফ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুর রহমান ওরফে শামিম, ফজলুর রহমান, প্রদীপ কুমার দাশ, খালেদুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ বিঘা মাঠ (কবরস্থান), ১১ এপ্রিল, ১২ এপ্রিল, ১৩ এপ্রিল, ১৮০ থেকে ২০০ জন আসামি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!