📌 জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ নেতার অর্ধেক সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় দিয়েছে। এতে শেখ হাসিনা-নেতৃত্বাধীন দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আরও ২২ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল (মঙ্গলবার) ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ নেতার অর্ধেক সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় দিয়েছে। এই সাজা দেওয়া হয়েছে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র দায়ে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিতরণ করা হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড — আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
- 📌 পাঁচ নেতার অর্ধেক সম্পদ বাজেয়াপ্ত — ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
- 📌 বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি শহীদ-আহতদের জন্য — বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 সাত আসামি পলাতক — মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত নেতা সবাই পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
- 📌 ৬৮ আসামির মধ্যে ২২ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত — দুটি ট্রাইব্যুনালের ৭টি রায়ে মোট ৬৮ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়ের আগে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এই মামলার রায়ের কপি ৫৫০ পৃষ্ঠার বেশি। পৃষ্ঠা আরও বাড়বে। পুরো রায় ইংরেজিতে। তবে সহজে বোঝার জন্য এর কিছু অংশ বাংলা করে আনা হয়েছে।’
ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। চারটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাদ্দাম হোসেনের কথোপকথনে ‘মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন?’ বলে আন্দোলন দমনের সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। এ পর্যন্ত এই ট্রাইব্যুনালের ৭টি রায়ে মোট ৬৮ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
"এই মামলার অনেক কাগজ। তাঁদের পড়তে কষ্ট হয়েছে। রায় দিতে কষ্ট হয়েছে। প্রসিকিউশনেরও কম কষ্ট হয়নি। সাক্ষীরাও কষ্ট করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা অবর্ণনীয় পরিশ্রম করেছেন। সাংবাদিকেরাও সহযোগিতা করেছেন। সবাইকে ধন্যবাদ।"
— বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২), চট্টগ্রাম (মুরাদপুর এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতা), ৫ (সম্পদ বাজেয়াপ্ত নেতা), ৬৮ (মোট আসামি), ২২ (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি), ৫৫০+ (রায়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!