📌 আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন পাথরঘাটার জেলে আব্বাস মল্লিক। তিনি জানান, র্যাব সদস্যরা বন্দীদের নৌকায় তুলে নিয়ে গভীর নদে নিয়ে গিয়ে জিয়াউল আহসান গুলি করে হত্যা করতেন। মৃতদেহে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদে ফেলে দেওয়া হতো
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চর দুয়ানীর জেলে মো. আব্বাস মল্লিক। তিনি জানান, ২০১০ সালে র্যাব সদস্যরা তাঁর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বন্দীদের নৌকায় তুলে নিয়ে যেতেন। এরপর বলেশ্বর নদে গভীরে নিয়ে গিয়ে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান গুলি করে হত্যা করতেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 একজন বন্দীকে দুই র্যাব সদস্য সাপোর্টের ওপর চেপে ধরে রাখলে জিয়াউল আহসান তাঁকে গুলি করতেন
- 📌 মৃত বন্দীর গলায় বা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদে ফেলে দেওয়া হতো
- 📌 অভিযানের দিন রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে র্যাবের ৪ থেকে ৫টি মাইক্রোবাস এলাকায় আসত
- 📌 আব্বাস মল্লিকের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিক র্যাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি নিখোঁজ
📰 বিস্তারিত
আব্বাস মল্লিক তাঁর জবানবন্দিতে জানান, র্যাব সদস্যরা তাঁর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দোকান মালিকদের নির্দেশ দিতেন সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ রাখতে। রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে র্যাবের ৪ থেকে ৫টি মাইক্রোবাস এলাকায় আসত। এরপর গাড়ি থেকে বন্দীদের নৌকায় তুলে নিয়ে যাওয়া হতো। তিনি বলেন, ‘বন্দীদের হাত ও চোখ বাঁধা থাকত। তাঁদের ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হতো।’
তিনি আরও জানান, বন্দীদের নৌকায় ওঠানোর পর রিয়াজের দোকান থেকে সিমেন্টের বস্তা, রশি ও হোগলা নেওয়া হতো। এরপর তাঁদের নৌকা চালাতে বলা হতো। বলেশ্বর নদে গভীরে যাওয়ার পর ট্রলারের ব্রিজ ও খোন্দা থেকে বন্দীদের বের করে আনা হতো। দুই র্যাব সদস্য তাঁকে সাপোর্টের ওপর চেপে ধরে রাখলে জিয়াউল আহসান তাঁকে গুলি করতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক গুলিও করা হতো। মৃতদেহে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদে ফেলে দেওয়া হতো।’
আব্বাস মল্লিক বলেন, তাঁর ছোট ভাই আলকাছ মল্লিক র্যাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি নিখোঁজ। আলকাছ মাঝেমধ্যে তাঁদের সঙ্গে নদে মাছ ধরতে যেতেন। তিনি মুদির দোকানও করতেন। তাঁদের ব্যবহৃত নৌকার মালিক ছিলেন আলকাছ মল্লিক।
‘গভীর পানিতে যাওয়ার পর বন্দীদের ব্রিজ ও খোন্দা থেকে বের করে আনত। আমাদের ট্রলার/বোটের দুই সাইডে সাপোর্ট নামক একটি অংশ থাকে। একজন বন্দীকে বের করার পর দুজন র্যাব সদস্য সেই বন্দীকে সাপোর্টের ওপর বসিয়ে চেপে ধরে রাখত। এরপর জিয়া স্যার ওই বন্দীর মাথায়, কানে অথবা বুকে গুলি করত। কোনো বন্দীকে একটি গুলি করত, কোনো বন্দীকে দুটি গুলি করত। এরপর ওই মৃত বন্দীর গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা হতো। এরপর ওই বন্দীর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ চর দুয়ানী, পাথরঘাটা, বরগুনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আব্বাস মল্লিক, জিয়াউল আহসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪-৫টি মাইক্রোবাস, ১১টা থেকে ১২টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!