📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী মমতাজ আরা বর্ষাকে র্যাব আটক করার চেষ্টা করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ঘটনায় জড়িতদের দাবি-বিরোধী কথা ও র্যাবের অপারেশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্ষা আত্মগোপনে চলে গেছেন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক ছাত্রী মমতাজ আরা বর্ষাকে আটক করার চেষ্টা করে র্যাবের অপারেশন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ঘটনায় জড়িতদের দাবি-বিরোধী কথা ও র্যাবের অপারেশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্ষা আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মমতাজ আরা বর্ষা (জবি সাবেক ছাত্রী) আত্মগোপনে চলে গেছেন, মুঠোফোন বন্ধ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই।
- 📌 র্যাবের কর্মকর্তা ‘জিনের ভর’ মামলায় বর্ষাকে আটক করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ঘটনায় জড়িতদের দাবি-বিরোধী কথা উঠে আসে।
- 📌 ৭ সেপ্টেম্বর সকালে র্যাবের কর্মকর্তারা কলতাবাজার মেসে ঢুকে বর্ষাকে আটক করার চেষ্টা করেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ করেন।
- 📌 বর্ষা দাবি করেন, তাঁর বোনের সাবেক স্বামী সুমন মিয়া র্যাবের আইটি বিভাগে কাজ করেন এবং প্রতিশোধ নিতে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
- 📌 র্যাবের কর্মকর্তারা দাবি করেন, সুমন মিয়া র্যাব-২-এ কাজ করেন না, তবে বাহিনীটির ১৫টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে।
- 📌 বর্ষা ৬ সেপ্টেম্বর থেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং তাঁর বোন বৃষ্টি জানান, বর্ষা দুটি টিউশনি করতেন এবং মাসে সাড়ে সাত হাজার টাকা আয় করতেন।
📰 বিস্তারিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক ছাত্রী মমতাজ আরা বর্ষাকে আটক করার চেষ্টা করে র্যাবের অপারেশন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ঘটনায় জড়িতদের দাবি-বিরোধী কথা ও র্যাবের অপারেশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্ষা আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বর্ষার রুমমেট, শিক্ষক ও জকসুর নেতারা বলছেন, ঘটনার পর তিনি মেস ছেড়েছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। মুঠোফোনও বন্ধ। বর্ষার বোনও বলেছেন, পরিবারের সঙ্গে বর্ষার যোগাযোগ নেই।
র্যাবের কর্মকর্তারা দাবি করেন, বর্ষা ‘জিনের ভর করার’ নাম করে একটি মামলায় আসামি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করতে গিয়েছিল র্যাব। তবে বর্ষা দাবি করেন, তাঁর বোনের সাবেক স্বামী সুমন মিয়া র্যাবের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কাজ করেন এবং প্রতিশোধ নিতে র্যাবের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। র্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, র্যাব-২-এ সুমন নামে কেউ কাজ করেন না। বাহিনীটির ১৫টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। পুরো নাম ও পদবি না বললে কোনো ব্যক্তির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
৭ সেপ্টেম্বর সকালে র্যাবের কর্মকর্তারা কলতাবাজার মেসে ঢুকে বর্ষাকে আটক করার চেষ্টা করেন। মেসের বাসিন্দারা বলছেন, সকাল পৌনে সাতটার দিকে মেসের সামনে একটি মাইক্রোবাস এসে থামে। ওই মাইক্রোবাসে তিনজন ব্যক্তি ছিলেন, যাদের পরনে র্যাবের পোশাক ছিল না। ওই তিন ব্যক্তি মেসের নিরাপত্তাকর্মীকে নিয়ে মেসে যান এবং দরজা খুলতে বলেন। তবে মেসের বাসিন্দারা শুরুতে দরজা খোলেননি। গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কির মুখে বাসিন্দারা দরজা খুলতে বাধ্য হন। এরপর ওই তিন ব্যক্তি মেসে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন। কিছু না পেয়ে বর্ষাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মেসের বাসিন্দারা বেশির ভাগ জবির শিক্ষার্থী। তাঁরা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জবির ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতাদের জানান।
"আমি জানি না কেন র্যাব আমাকে আটক করার চেষ্টা করছে। আমার বোনের সাবেক স্বামী সুমন মিয়া র্যাবের আইটি বিভাগে কাজ করেন। তিনি প্রতিশোধ নিতে র্যাবের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।"
বর্ষা জবির নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। বর্ষা কলতাবাজার এলাকার সাততলা ভবনের সপ্তম তলার একটি মেসে থাকতেন। বর্ষার রুমমেট ও মেস ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বলেছেন, বর্ষা দুটি টিউশনি করতেন এবং মাসে সাড়ে সাত হাজার টাকা আয় করতেন। তিনি মেসে দুটি আসন ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ভাড়ার পেছনেই চলে যেত ছয় হাজার টাকা। তবে মাস তিনেক আগে বর্ষা টিউশনি ছেড়ে দেন। বর্ষার বোন বৃষ্টি জানান, বর্ষার জন্য তাঁর বাবা টাকা পাঠাতেন এবং বর্ষা অনলাইনে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সে সময় বর্ষা হ্যাকিং বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন বৃষ্টি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলতাবাজার, ঢাকা (সাততলা ভবনের সপ্তম তলা মেস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমতাজ আরা বর্ষা (জবি সাবেক ছাত্রী), সুমন মিয়া (বোনের সাবেক স্বামী), তারেক বিন আতিক (জবি পরিবহন প্রশাসক), মোস্তাফিজুর রহমান (জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ সেপ্টেম্বর (ঘটনার তারিখ), ১৫টি ব্যাটালিয়ন (র্যাবের), সাড়ে সাত হাজার টাকা (বর্ষার মাসিক আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!