📌 রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে অবৈধ রক্তবাণিজ্য চক্রে এক ব্যাগ রক্তের দাম ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। সরকারি ব্লাডব্যাংকের ৭০০ টাকার খরচের বিপরীতে এই অবৈধ ব্যবসায়ে রক্তের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া রক্ত সরবরাহ রোগীদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে
রংপুরের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রমেক) কেন্দ্রে অবৈধ রক্তবাণিজ্য চক্রের আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকায় লাইসেন্সবিহীন ব্লাড ব্যাংক ও অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রক্ত কেনা-বেচা চলছে। জরুরি চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে এক ব্যাগ রক্তের দাম ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যেখানে সরকারি ব্লাডব্যাংকে খরচ মাত্র ৭০০ টাকা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই অবৈধ রক্ত সরবরাহে যথাযথ স্ক্রিনিং ও ক্রস-ম্যাচিং অনুপস্থিত থাকায় রোগীদের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে অবৈধভাবে এক ব্যাগ রক্তের দাম ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে
- 📌 সরকারি ব্লাডব্যাংকে এক ব্যাগ রক্তের খরচ মাত্র ৭০০ টাকা, কিন্তু অবৈধ বাজারে দাম ১৪ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে
- 📌 ধাপ এলাকায় মাত্র ২টি বৈধ রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র থাকলেও, অন্তত ১০-১২টি অবৈধ প্রতিষ্ঠানে রক্তের বাণিজ্য চলছে
- 📌 দালালচক্রের সদস্যরা মাদকাসক্ত ও দরিদ্রদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে রক্ত সংগ্রহ করে জরুরি রোগীদের কাছে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা দামে বিক্রি করছে
- 📌 স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া রক্ত সরবরাহে এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও সিফিলিসের মতো সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে
- 📌 রংপুরে ২০২৬ সালের প্রথম ১১১টি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে, কিন্তু অবৈধ রক্তবাণিজ্য চক্র এখনও সক্রিয়
📰 বিস্তারিত
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে অবৈধ রক্তবাণিজ্যের চক্র এখনও অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালের সংলগ্ন ধাপ এলাকায় লাইসেন্সবিহীন ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রক্তের বাণিজ্য চলছে। প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ২.৫ হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন, যার মধ্যে অনেকেই জরুরি রক্তের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে অবৈধ বাজারে যেতে বাধ্য হন।
অবৈধ রক্তবাণিজ্যের দালালরা রোগীদের কাছ থেকে এক ব্যাগ রক্তের দাম ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। এই রক্তের দাম সরকারি ব্লাডব্যাংকের ৭০০ টাকার বিপরীতে ১৪ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। দালালরা মাদকাসক্ত ও দরিদ্রদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে রক্ত সংগ্রহ করে জরুরি রোগীদের কাছে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা দামে বিক্রি করছেন। এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তার জরুরি প্রয়োজনে দালালের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে এক ব্যাগ রক্ত কিনতে হয়েছিল।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রায়ান আহমেদ রাজু বলেছেন, যথাযথ পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও ক্রস-ম্যাচিং ছাড়া রক্ত সরবরাহ করা হলে রোগীর শরীরে সংক্রমিত বা ভুল রক্ত যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পেশাদার রক্তদাতা ও মাদকাসক্তদের রক্তে এইচআইভি, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি ও সিফিলিসের মতো সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রক্ত পরিসঞ্চালনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ নির্দিষ্ট অবকাঠামো ও জনবল থাকা বাধ্যতামূলক। তবে ধাপ এলাকার কথিত অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব কোনো সুবিধা নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।
"কাগজ না দেখে বলা যাবে না রংপুরে বৈধ কতটি ব্লাড ব্যাংক রয়েছে, কিন্তু অবৈধ চক্রের আকার এখন ভয়াবহ। এই চক্র বন্ধ করতে সরকারি ব্লাড ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং দালালচক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর, ধাপ এলাকা, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রায়ান আহমেদ রাজু (স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ), ডা. শাহীন সুলতানা (রংপুর সিভিল সার্জন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার টাকা (রক্তের সর্বোচ্চ দাম), ২ থেকে ২.৫ হাজার (প্রতিদিন রোগী), ৭০০ টাকা (সরকারি ব্লাডব্যাংকের খরচ), ১০-১২টি (অবৈধ প্রতিষ্ঠান), ৪০-৫০ জন (দালালচক্রের সদস্য), ১১১টি (বন্ধ করা অবৈধ ক্লিনিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!