📌 কক্সবাজার বাঁকখালী নদীকে 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' ঘোষণা করে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়। দখলদারদের উচ্ছেদ ও নদী রক্ষায় ৪ মাসের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীকে সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়। দখলদারদের উচ্ছেদ ও নদী রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চ। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাঁকখালী নদীকে 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' (ইসিএ) ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়
- 📌 ৪ মাসের মধ্যে নদী ও আশপাশের এলাকার সীমানা নির্ধারণ ও পিলার স্থাপনের নির্দেশ
- 📌 সব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ, নদীকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান
- 📌 প্রতি ছয় মাস পরপর (জানুয়ারি ও জুলাই মাসে) নদী রক্ষায় পদক্ষেপের অগ্রগতি আদালতে জমা দিতে হবে
- 📌 কলম্বিয়া ও পেরুর নদীর উদাহরণ টেনে আদালত মনে করিয়ে দেন যে নদীও আইনি অধিকার রাখে
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী বাঁকখালী নদী ও এর আশপাশের এলাকাকে 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' হিসেবে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ে আরএস ও বিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদীর বর্তমান প্রবাহ বিবেচনায় সীমানা নির্ধারণ ও পিলার স্থাপনের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৪ মাসের মধ্যে সব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং নদীকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, নদীর দুই তীরে উজাড় হওয়া উপকূলীয় বন পুনরায় পুনরুদ্ধার বা বনায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটিকে 'কন্টিনিউয়াস ম্যানডামাস' বা চলমান তদারকি হিসেবে ঘোষণা করে আদালত জানুয়ারি ও জুলাই মাসে প্রতি ছয় মাস পরপর নদী রক্ষায় পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত কলম্বিয়ার আত্রাতো ও পেরুর মারানিওন নদীর উদাহরণ টেনে বলেছেন, নদী শুধু জলধারা নয়, এর নিজস্ব আইনি সত্তা ও অধিকার রয়েছে। উল্লেখ্য, দখল থেকে বাঁকখালী নদীকে মুক্ত করে এর জৌলুস ফিরিয়ে আনতে ২০১৪ সালে বেলা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিল। এর বিরুদ্ধে দখলকারীরা ২০২৩ সালে অপর একটি মামলা দায়ের করে, যা গত ২৪ আগস্ট খারিজ করে দিয়েছিলেন আদালত।
"নদী শুধু জলধারা নয়, এর নিজস্ব আইনি সত্তা ও অধিকার রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, বাঁকখালী নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী জিনাত হক, আইনুন নাহার সিদ্দিকার, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ মাস, ২৪ আগস্ট, ৫ ধারা, প্রতি ছয় মাস পরপর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!