📌 ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে ১৬ জন আসামির মধ্যে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, ৪ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চের রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। এই রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ জন আসামির মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে শাহাদাত হোসেন শামীম ও সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত করা হয়েছে। বাকি ১০ জন আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাইকোর্টের ১১২ পৃষ্ঠার রায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ জন খালাস
- 📌 বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চের রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ
- 📌 অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে
- 📌 ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল মাদরাসায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়, নুসরাত ১০ এপ্রিল মারা যান
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের ১১২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এই রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন ও মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলরকে খালাস দেওয়া হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে, ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদের রায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট মন্তব্য করেছেন, একসঙ্গে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারক প্রয়োজনীয় বিচারিক বিবেচনা বা ‘জুডিসিয়াল মাইন্ড’ প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রত্যেক আসামির ভূমিকা ও অপরাধে সম্পৃক্ততার মাত্রা পৃথকভাবে মূল্যায়ন না করেই দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ কারণে বিচারক মামুনুর রশিদকে ফৌজদারি মামলার বিচার ও দণ্ড নির্ধারণসংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
"হাইকোর্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে, ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (হাইকোর্ট), সোনাগাজী উপজেলা (ঘটনাস্থল), ফেনী (হাসপাতাল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী, কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, নুসরাত জাহান রাফি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ জন আসামি, ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ জন খালাস, ১১২ পৃষ্ঠার রায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!