📌 হাইকোর্ট বি-আর পাওয়ারজেনের প্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুব কবিরের চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত তাকে অবিলম্বে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে এবং অপসারণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বার্থের সংঘাতের কথা উল্লেখ করেছে
হাইকোর্টের রায়ে বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেডের প্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুব কবিরের চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার (২৫ অক্টোবর) রায় দিয়েছেন। রায়ে মাহবুব কবিরকে অবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাইকোর্ট বি-আর পাওয়ারজেনের প্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুব কবিরের চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং তাকে অবিলম্বে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে।
- 📌 ২০২০ সালের ২৩ জুন মিরসরাই বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেনারেটর জটিলতার কারণে মাহবুব কবিরকে অসদাচরণের অভিযোগে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছিল।
- 📌 হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেছে যে, তদন্তকালে মাহবুব কবিরকে কোনো সাক্ষীকে জেরা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
- 📌 তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুস সবুর স্বার্থের সংঘাত থাকা সত্ত্বেও অপসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, যা আইনের মৌলিক নীতিকে লঙ্ঘন করেছে।
- 📌 বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত ৫৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন বোর্ড কর্তৃক আটকে দেওয়া হয় এবং আট পৃষ্ঠার পরিবর্তিত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়, যা আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
- 📌 হাইকোর্ট বলেছে, শতভাগ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বি-আর পাওয়ারজেনের বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য।
📰 বিস্তারিত
হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, মিরসরাই বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেনারেটরের উৎস নিয়ে জটিলতার কারণে ২০২০ সালের ২৩ জুন মো. মাহবুব কবিরকে অসদাচরণের অভিযোগে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তবে আদালত এই প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছে। রায়ে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে মাহবুব কবিরকে কোনো সাক্ষীকে জেরা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা তার আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছে।
হাইকোর্টের রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুস সবুর স্বার্থের সংঘাত থাকা সত্ত্বেও তিনি অপসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। এতে ‘কেউ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হতে পারে না’- এই আইনের মৌলিক নীতিকে লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে রায়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ৫৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে মাহবুব কবিরের অপসারণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছিল। কিন্তু কোম্পানির বোর্ড এই প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরিবর্তে তা আটকে দেয়। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তাদের চাপ দেওয়া হয় এবং আট পৃষ্ঠার একটি পরিবর্তিত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়, যেখানে মূল প্রতিবেদনে উঠে আসা অনিয়মের পর্যবেক্ষণগুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্ট এই পদক্ষেপকে আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছে।
"শতভাগ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বি-আর পাওয়ারজেন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করে। তাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মাহবুব কবির, বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার, বিচারপতি উর্মি রহমান, মো. আবদুস সবুর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ অক্টোবর, ২৩ জুন ২০২০, ৫৬ পৃষ্ঠা, ১০২ অনুচ্ছেদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!