📌 দুদক অনুমোদন দিয়েছে পি কে হালদারের ভাই প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে চার্জশিট। আনান কেমিক্যালের পরিচালক প্রিতিশের নামে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। দুদক তদন্তে প্রিতিশের ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে
দুদক অনুমোদন দিয়েছে পি কে হালদারের ভাই প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে চার্জশিট। আনান কেমিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক প্রিতিশের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, প্রিতিশের নামে প্রায় ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রিতিশ কুমার হালদারর বিরুদ্ধে দুদক চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে।
- 📌 আনান কেমিক্যালের পরিচালক প্রিতিশের নামে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে।
- 📌 প্রিতিশের বিবৃত আয় ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা, কিন্তু দুদক কোনো রেকর্ডপত্র পায়নি।
- 📌 ব্যাংক এশিয়ার হিসাবে ৭ কোটি ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৬ টাকা অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
- 📌 প্রিতিশ সম্পদ বিবরণী জমা দেননি, ফলে দুদক আইনের ২৬ (২) ধারায় অপরাধের অভিযোগ করেছে।
- 📌 চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায়।
📰 বিস্তারিত
দুদকের জনসংযোগ শাখার উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদনের বিষয়টি আজ রোববার ঘোষণা করা হয়েছে। দুদক জানায়, আনান কেমিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক প্রিতিশের নামে ক্রয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রিতিশের বিবৃত আয় ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা, কিন্তু দুদকের তদন্তে তার ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণ হিসেবে দেখানো ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে দুদক ওই অর্থকে বৈধ আয় হিসেবে গ্রহণ করেনি এবং মনে করে, অবৈধ আয়কে বৈধ দেখানোর উদ্দেশ্যে অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক তদন্তে প্রিতিশ কুমার হালদার ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে-বেনামে থাকা সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের উৎসের বিবরণী চেয়েছিল। ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত ঠিকানায় প্রিতিশ পাওয়া না গেলে, একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তাঁর ঠিকানায় সম্পদ বিবরণীর নোটিশ লটকিয়ে জারি করা হয়। এরপরও তিনি সম্পদ বিবরণী জমা দেননি। এতে দুদক আইনের ২৬ (২) ধারায় অপরাধ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।
দুদক আরও জানায়, প্রিতিশের ব্যাংক এশিয়ার করপোরেট শাখায় থাকা একটি হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত ওই হিসাবে মুনাফাসহ ৪ কোটি ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৩০ টাকা জমা হয়। একই সময়ে উত্তোলন করা হয় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৫ টাকা। সব মিলিয়ে হিসাবের লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৬ টাকা। তদন্তে এসব লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে অবৈধ আয় বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
"আমরা প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (দুদক সদর দফতর, ব্যাংক এশিয়া করপোরেট শাখা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রিতিশ কুমার হালদার, আকতারুল ইসলাম, মো. শহীদুল আলম সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ কোটি টাকা (অবৈধ সম্পদ), ৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা (অস্বাভাবিক লেনদেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!