📌 সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে গণমাধ্যমবিরোধী ধারাগুলো পুনরায় অন্তর্ভুক্তের আশঙ্কা উঠেছে। গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ আইনের অপপ্রয়োগের ভয় প্রকাশ করে বলেছেন, বাতিল হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো এই আইনও গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে তৈরি হতে পারে। সরকার বলেছে, গণমাধ্যমকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে।
সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে গণমাধ্যমের জন্য বিপদজনক ধারাগুলো অন্তর্ভুক্তের আশঙ্কা উঠেছে। প্রস্তাবিত আইনে বাতিল হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো গণমাধ্যমবিরোধী বিষয়বস্তু যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ উদ্বিগ্ন। আজ ঢাকার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একটি পরামর্শ সভায় তারা এই বিষয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে গণমাধ্যমবিরোধী ধারাগুলো পুনরায় অন্তর্ভুক্তের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
- 📌 ডেইলি স্টারের কনসালট্যান্ট এডিটর কামাল আহমেদ বলেছেন, আইনের অপপ্রয়োগের ঝুঁকি বাড়লে কঠোর আইনও কার্যকর হবে না।
- 📌 প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ উল্লেখ করেছেন, প্রস্তাবিত আইনের ২৫ ও ২৬ নম্বর ধারাতে মানহানি ও অপতথ্যের ব্যাখ্যা অস্পষ্ট, যা গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে তৈরি হতে পারে।
- 📌 মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বলেছেন, গণমাধ্যমের সুরক্ষা ও সমাজের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রেখে আইনটি প্রণয়ন করা হবে।
- 📌 সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬র খসড়া পর্যালোচনার জন্য আজ সচিবালয়ে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
📰 বিস্তারিত
সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে গণমাধ্যমের জন্য বিপদজনক ধারাগুলো অন্তর্ভুক্তের আশঙ্কা উঠেছে। প্রস্তাবিত আইনে বাতিল হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো গণমাধ্যমবিরোধী বিষয়বস্তু যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ উদ্বিগ্ন। আজ ঢাকার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একটি পরামর্শ সভায় তারা এই বিষয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন।
সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিক নেতারা। সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গের উদ্বেগ:
"সাইবার সুরক্ষা আইনে বলা হয়েছে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করবেন। কিন্তু তৃতীয় কোনো ব্যক্তিও মামলা করছেন এবং আদালত সেই মামলা গ্রহণ করছেন, আসামিরা জামিনও পাচ্ছেন। আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ হলে পুলিশ এ ধরনের মামলা গ্রহণই করতে পারে না। যতই কঠিন আইন করা হোক না কেন, সেটির অপপ্রয়োগ হলে ওই আইন করে কোনো লাভ হবে না। সুতরাং অপপ্রয়োগের ঝুঁকি কীভাবে বন্ধ করা যায়, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।"
ডেইলি স্টারের কনসালট্যান্ট এডিটর কামাল আহমেদ বলেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, প্রস্তাবিত আইনে মোবাইল কোর্টকে ক্ষমতায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা আইনের অপপ্রয়োগের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেছেন, সংবাদকর্মীরা অতীতেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মানহানি, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, অশ্লীল বিষয়বস্তু এবং সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্যসংক্রান্ত বিষয়ে ভুক্তভোগী হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রস্তাবিত আইনের ২৬ নম্বর ধারায় অপতথ্যের ব্যাখ্যা অস্পষ্ট, ব্যাপক ও বিমূর্ত বলে মনে করেন। তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে ভুক্তভোগী করার আশঙ্কা আছে।
নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী বলেছেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীর ৮(২) ধারায় রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, সাধারণভাবে রাজনৈতিক নেতারা যেসব শব্দ ও বর্ণ ব্যবহার করেন, সেসব ক্ষেত্রে যদি এই আইন প্রয়োগ করা হয়, তাহলে তা সংবাদকর্মীদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।
মেটা প্ল্যাটফর্মের সমস্যা:
"মেটাকে যদি এর আওতায় আনা না যায়, তাহলে সাইবার সুরক্ষা বলা হোক বা সামাজিক মাধ্যমের সুরক্ষার কথা বলা হোক—কোনোটিই কাজ করবে না। আমি গণমাধ্যম কমিশন করার ওপরও জোর দেব।"
সময় টিভির সিইও জুবায়ের বাবু বলেছেন।
গণমাধ্যমের সুরক্ষা ও সমাজের নিরাপত্তার ভারসাম্য:
"গণমাধ্যমকে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, অনলাইন গণমাধ্যমকে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, একই সঙ্গে সমাজকেও কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়—সেসবের মধ্যে ভারসাম্য রেখে আইনটি করা হবে।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, সচিবালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফকির মাহবুব আনাম, কামাল আহমেদ, সাজ্জাদ শরিফ, মাসুমুর রহমান খলিলী, জুবায়ের বাবু, সালাহউদ্দিন আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ধারা ২৫ ও ২৬, ধারা ৮(২)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!