📌 খাগড়াছড়ির ১১ বছর বয়সী একটি শিশুকে ঢাকার একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে মারধর ও নির্যাতনের শিকার করা হয়। শিশুটির শরীরে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া, টয়লেটে আটকে রাখা এবং খাবার না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দম্পতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন
খাগড়াছড়ির একটি ১১ বছর বয়সী শিশুকে ঢাকার একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। শিশুটির শরীরে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া, প্রতিদিন মারধর করা, টয়লেটে আটকে রাখা এবং খাবার না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর তারা জানতেন না যে তার ওপর এমন নির্যাতন চলছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এবং তাকে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাগড়াছড়ির ১১ বছর বয়সী শিশুকে ঢাকার একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে মারধর ও নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। শিশুটির শরীরে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া, টয়লেটে আটকে রাখা এবং খাবার না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর তারা জানতেন না যে তার ওপর এমন নির্যাতন চলছে। শিশুটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
- 📌 শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তাকে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও সাইফুদ্দিন রাসেল (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা ঢাকার কলাবাগানের গ্রিন রোডের একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার হয়।
- 📌 শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার একটি দিনমজুর পরিবারের ১১ বছর বয়সী মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়। শিশুটির দাদি জানান, তারা গরিব মানুষ। কাজ করে পেট ভরে খাবার পাবার আশায় মেয়েকে মানুষের বাসায় কাজে পাঠিয়েছিল। কিন্তু মেয়েকে আধামরা করে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে ঠিক কোথায় নেওয়া হচ্ছে, কার বাসায় রাখা হবে, সেই ঠিকানাও তাঁর জানা ছিল না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে মেয়েকে পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।
শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল। ওই বাসার গৃহকর্তা সাইফুদ্দিন রাসেল এবং গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটন। শিশুটি বলে, ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। গৃহকর্ত্রী ছোটন ও তাঁর মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত। শুধু মারধর নয়, দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো।
শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর বাবাও জানতেন না তার মেয়েকে নির্যাতনের বিষয়টি। কাজের জন্য মেয়েকে পাঠিয়েছিলেন, তাই হয়তো ভালোই আছে। কয়েক দিন আগে মেয়ের মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে ছুটে যান তার বাবা। এরপর শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটায় মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।
"আমরা গরিব মানুষ। কাজ করে পেট ভরে খাবার পাবে, এই আশায় মা মরা নাতনিকে মানুষের বাসায় কাজে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তারা নাতনিটাকে আধামরা করে পাঠিয়েছে। ডাক্তার বলেছে আরও ভালো চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যেতে। আমাদের খাওয়ার টাকাই নেই। কীভাবে চট্টগ্রামে নিয়ে যাব।"
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেছেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকা এবং চরম নির্যাতনের কারণে শিশুটির শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতাল, ঢাকার মিরপুর (কাফরুল থানা), ফেনী সদর হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিশু (১১ বছর), শিশুটির বাবা, শিশুটির দাদি, মোর্শেদা আক্তার (৩৮), সাইফুদ্দিন রাসেল (৪৮), রিপল বাপ্পী চাকমা (আরএমও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ বছর (শিশুটির বয়স), ৩৮ বছর (মোর্শেদা আক্তারের বয়স), ৪৮ বছর (সাইফুদ্দিন রাসেলের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!