📌 চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারকদের আশ্রয়দাতা মোহাম্মদ মহসীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকালে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্টের যোগসূত্র পাওয়া যায় এবং তাদের মধ্যে কোকেনের লিংকও পাওয়া যায়। পুলিশের অভিযানে ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার হয়
চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারকদের আশ্রয়দাতা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মহসীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মহসীনকে গ্রেপ্তার করার পর ৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্টের যোগসূত্র পাওয়া যায় এবং তাদের মধ্যে কোকেনের লিংকও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা জড়িত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ জন ও ভিয়েতনামের ১ জন রয়েছে
- 📌 গ্রেপ্তারকৃতদের ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস (ল্যাপটপ, মোবাইলসহ) উদ্ধার করা হয়
- 📌 মোহাম্মদ মহসীনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তিনি ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকায় পাঠানোর অভিযোগে মামলায় জড়িত
- 📌 ১৪টি ফ্ল্যাটে অবস্থানকারী প্রতারকরা দেড় মাস ধরে অনলাইন প্রতারণার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন
- 📌 মহসীনকে সাইবার সুরক্ষা আইনে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় মোহাম্মদ মহসীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মহসীনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায় অবস্থিত। তিনি চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, মহসীন ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন। তিনি তাদের জন্য আটতলা ভবন ভাড়া দিয়েছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মহসীন কোকেনের মামলায় জড়িত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচ জন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইলসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ১৪টি ফ্ল্যাটে দেড় মাস ধরে তারা অবস্থান করছিলেন। ভবনটিতে সার্ভার, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করা ছিল। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা অনলাইন প্রতারণার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত বিদেশি নাগরিকরা প্রায় দেড় মাস আগে ওই বাড়িটি ভাড়া নেন। তারা সংঘবদ্ধভাবে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তাদের সহায়তা করেছিল দেশীয় একটি চক্র।’ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মহসীনকে কোকেনের মামলায় আজ সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখাতে আদালতে আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে রিমান্ডেরও আবেদন করা হয়েছে।
"৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসীনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আটতলা ভবন তাদের ভাড়া করে দিয়েছিলেন। মহসীনের পেছনে থাকা অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।"
"মহসীন কুরিয়ারে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন। এগুলো ফেরত আসে। কোকেনের তথ্য খুঁজতে গিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের খুলশী ও কর্ণফুলী এলাকা, জালালাবাদ আবাসিক এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ মহসীন, ওসি আবদুর রহিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩ (বিদেশি নাগরিক), ১৭০ (ইলেকট্রনিক ডিভাইস), ১১৮ (গ্রাম কোকেন), ৩৫ (লাওসের নাগরিক), ২১ (পাকিস্তানের নাগরিক), ১৪ (ফ্ল্যাট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!