📌 সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ট্রাক প্রবেশ কমে এক-তৃতীয়াংশে নেমে যাওয়ায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জীবিকাসংকটে পড়েছেন। অবকাঠামো সংকট ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে বন্দরে ব্যবসা কমে গেছে
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ট্রাক প্রবেশের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশে কমে যাওয়ায় হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জীবিকাসংকটে পড়েছেন। অবকাঠামোগত সংকট, সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভোমরা স্থলবন্দরে ট্রাক প্রবেশ কমে এক-তৃতীয়াংশে নেমে গেছে, যা শ্রমিকদের জীবিকা সংকটে ফেলেছে
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকার টার্গেটের বিপরীতে মাত্র ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে
- 📌 চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকার টার্গেটের বিপরীতে মাত্র ৪১২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে
- 📌 কলকাতা থেকে মাত্র ৬০ কিমি দূরে অবস্থিত বন্দরটিতে অবকাঠামো সংকট ও সুযোগ-সুবিধার অভাবের কারণে ব্যবসা কমে গেছে
- 📌 হ্যান্ডেলিং শ্রমিক বাবলুর রহমান বলেছেন, আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা ইনকাম হতো, এখন অনেকের দিনে ১ টাকাও না পাওয়া যাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
ভোমরা স্থলবন্দর ১৯৯৬ সালের ১৫ এপ্রিল ১৬টি পণ্যের আইটেম নিয়ে এলসি স্টেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০১৩ সালে ওয়্যার হাউস নির্মাণের পর পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের মর্যাদা পায়। কলকাতা থেকে মাত্র ৬০ কিমি দূরে অবস্থিত এই বন্দর সম্ভাবনাময় হলেও অবকাঠামো সংকট, সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্য কমে গেছে।
হ্যান্ডেলিং শ্রমিক বাবলুর রহমান বলেছেন, ‘আগে পাঁচ থেকে ছয় শ ট্রাক ঢুকত বন্দরে। প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক এখানে কর্মরত ছিলেন। এখন ঢোকে এক থেকে দেড় শ ট্রাক। তাহলে শ্রমিকেরা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন? আমাদের কামাই-রোজগার একেবারে নেই। আগে প্রতিদিন প্রতি শ্রমিকের কমপক্ষে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা ইনকাম হতো। এখন অনেকের অনেক দিন ১ টাকাও রোজগার হয় না।’
ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান জানান, ‘ভোমরায় এখন ব্যবসা নেই। ব্যবসার পরিবেশও নেই। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন, ওয়্যার হাউস, শেড ও ট্রাক টার্মিনালের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি টনপ্রতি যে স্বাভাবিক ছাড় পাওয়া যায় সেটাও এখানে নেই।’ ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, ‘পাশের বন্দরের তুলনায় আমরা একটি অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে আছি। কলকাতা খুব কাছে থাকা সত্ত্বেও আমরা এর ফল ঘরে তুলতে পারছি না। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের গতি শ্লথ হওয়াসহ নানাবিধ কারণে রাজস্ব আহরণে বিপুল ঘাটতি হচ্ছে।’
ভোমরা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ২ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা টার্গেটের বিপরীতে প্রথম তিন মাসে মাত্র ৪১২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণত এই বন্দর দিয়ে মসলা জাতীয় পণ্য, সবজি, চাল, ডাল, গম, শিল্পের কাঁচামাল ইত্যাদি আমদানি হয়। তবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি গেল তিন মাসে ৯৪ শতাংশ।
ভোমরা স্থলবন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির জানান, বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে এবং ব্যবসায়ীরা আরও আগ্রহী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
"আগে পাঁচ থেকে ছয় শ ট্রাক ঢুকত বন্দরে। প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক এখানে। এখন ঢোকে এক থেকে দেড় শ ট্রাক। তাহলে শ্রমিকেরা চলবে কীভাবে? আমাদের কামাই-রোজগার একেবারে নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোমরা স্থলবন্দর, সাতক্ষীরা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: বাবলুর রহমান (শ্রমিক), হামিদুর রহমান (ব্যবসায়ী), আবু মুসা (সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক), মিজানুর রহমান (সহকারী কমিশনার), মামুন কবির (উপপরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ এপ্রিল ১৯৯৬ (বন্দর প্রতিষ্ঠা), ৬০ কিমি (কলকাতা থেকে দূরত্ব), ১৬ টি পণ্য আইটেম, ৫০০-১০০০ টাকা (শ্রমিকের আগের ইনকাম), ১ টাকা (বর্তমান ইনকাম), ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা (২০২৫-২৬ অর্থবছরের টার্গেট), ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা (২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব), ২ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরের টার্গেট), ৪১২ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের রাজস্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!