📌 আলোকচিত্রী নামীম আশরাফের (৩৭) শেখেরটেক স্টুডিওতে ১৪ জুন তরুণীর (২৪) লাশ। বড় বোন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ ধর্ষণ-হত্যা মামলা। আসামি: নামীম, বাবা মো. আশরাফউদ্দিন (৫৬), মা শাহনাজ বেগম (৫০)। বিচারক মো. মনিরুজ্জামান ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছেন।
আদাবরের শেখেরটেকে আলোকচিত্রী নামীম আশরাফের (৩৭) স্টুডিও থেকে ১৪ জুন তরুণীর (২৪) লাশ উদ্ধারের দুই মাস পর এবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ ধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বড় বোন। আসামি হিসেবে নাম উঠেছে কারাবন্দী নামীম আশরাফ ছাড়াও তাঁর বাবা মো. আশরাফউদ্দিন (৫৬) ও মা শাহনাজ বেগমের (৫০)। বিচারক মো. মনিরুজ্জামান ডিবি পুলিশকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- আলোকচিত্রী নামীম আশরাফ (৩৭)-এর আদাবর শেখেরটেক স্টুডিও থেকে ১৪ জুন দুপুরে মেকআপ আর্টিস্ট তরুণীর (২৪) লাশ উদ্ধার—সিলিংয়ে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
- দুই বছর আগে শুটিংয়ে পরিচয়; পরিবার থেকে বিয়ের কথা চলছিল; নামীম বিয়ের আশ্বাস দিলেও সময়ক্ষেপণ করছিলেন।
- অভিযোগ: ১০ জুন নামীম তরুণীকে স্টুডিওতে ডেকে নেন, পরিবারকে 'বান্ধবীর বাসায়' বলতে বাধ্য করেন; ১০-১৪ জুন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরে হত্যা।
- ১৪ জুন লাশ উদ্ধারের পর তরুণীর বড় ভাই আদাবর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন—সেই মামলায় নামীম ১৫ জুন থেকে কারাবন্দী।
- গত সোমবার বড় বোন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ ধর্ষণ-হত্যা মামলা—বিচারক মো. মনিরুজ্জামান ডিবি পুলিশকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ।
- আসামি: নামীম আশরাফ, বাবা মো. আশরাফউদ্দিন (৫৬), মা শাহনাজ বেগম (৫০)।
- তদন্ত কর্মকর্তা: আদাবর থানার এসআই সুলতানুর রহমান—প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
- বড় বোনের অভিযোগ: থানায় মামলার পর পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি—তাই আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।
দুই বছরের সম্পর্ক ও বিয়ের আশ্বাস
দুই বছর আগে একটি শুটিংয়ের কাজে গিয়ে আলোকচিত্রী নামীম আশরাফের (৩৭) সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল মেকআপ আর্টিস্ট তরুণীর (২৪)। এই পরিচয় থেকে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাজধানীর আদাবরে নামীমের স্টুডিওতে এসে কাজ করতেন মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা তরুণী। পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ের কথাও চলছিল। কিন্তু এর মধ্যে গত ১৪ জুন দুপুরে ওই স্টুডিও থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নামীম বিয়ের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না করে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ১০ জুন নামীম আদাবরের শেখেরটেকে তাঁর স্টুডিওতে ওই তরুণীকে ডেকে নেন। সেখানে নিয়ে তাঁকে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলতে বাধ্য করা হয়। এরপর ১০ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত তাঁকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরে হত্যা করা হয়।
দুই মামলা: থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনা, ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ-হত্যা
১৪ জুন লাশ উদ্ধারের পর ওই তরুণীর বড় ভাই আদাবর থানায় নামীমকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন ১৫ জুন থেকে নামীম কারাগারে বন্দী আছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুলতানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর মধ্যে গত সোমবার ওই তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ মামলা করেছেন তরুণীর বড় বোন। এ মামলায় নামীমের বাবা মো. আশরাফউদ্দিন (৫৬) ও মা শাহনাজ বেগমকেও (৫০) আসামি করা হয়েছে। বিচারক মো. মনিরুজ্জামান বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত: আত্মহত্যা সন্দেহ
সেদিনের ঘটনা তুলে ধরে এসআই সুলতানুর রহমান মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেছেন, খবর পেয়ে ১৪ জুন বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা ওই তরুণীকে স্টুডিওর মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় স্টুডিও মালিক নামীম ও তাঁর এক বান্ধবী জানিয়েছিলেন, তাঁরা দুপুরে স্টুডিওতে এসে দেখেন ভেতর থেকে দরজা আটকানো। তখন আশপাশের লোকজনকে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে সিলিংয়ের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই তরুণীকে দেখতে পান। সেখান থেকে নামিয়ে দেখেন তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে।
সে সময় তরুণীর শরীরে কোনো নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পাননি জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁর গলায় দাগ ছিল। সেটা দেখে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছিল। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
'পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখি না'—বড় বোন
তবে পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত তরুণীর বড় বোন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার কারণ তুলে ধরে তিনি মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেছেন, 'আমার বোন ১০ জুন বাসা থেকে যায়। আর ১৪ জুন খবর পাই সে মারা গেছে। এর মাঝে দুই দিন ফোন দিলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। ১৪ জুন খবর পেয়ে সাথে সাথে আমরা ওই ছেলের স্টুডিওতে গিয়ে দেখি লাশ মেঝেতে পড়ে আছে। ওই রাতে আদাবর থানায় মামলা হয়। কিন্তু পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখি না। তাই বোনকে হত্যার বিচার পেতে আদালতে মামলা করেছি।'
বড় বোনের এই অভিযোগ থেকে স্পষ্ট যে, পরিবার থানায় প্রথম মামলার পর পুলিশের তৎপরতায় সন্তুষ্ট নয়। দুই মাস কেটে যাওয়ার পরও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি এবং প্রথম মামলায় অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়—যা পরিবারকে ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় মামলা করতে বাধ্য করেছে।
'আমার বোন ১০ জুন বাসা থেকে যায়। আর ১৪ জুন খবর পাই সে মারা গেছে। এর মাঝে দুই দিন ফোন দিলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। ১৪ জুন খবর পেয়ে সাথে সাথে আমরা ওই ছেলের স্টুডিওতে গিয়ে দেখি লাশ মেঝেতে পড়ে আছে। ওই রাতে আদাবর থানায় মামলা হয়। কিন্তু পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখি না। তাই বোনকে হত্যার বিচার পেতে আদালতে মামলা করেছি।'—নিহত তরুণীর বড় বোন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!