📌 সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজের চাপ কমাতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব করেছে সরকার। পিইডিপি-৫ অনুমোদনের পর এই পদ বাস্তবায়িত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়াও ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজের চাপ হ্রাস করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব করেছে বর্তমান সরকার। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদনের শর্তে। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য জানান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষামন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তিনি সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য প্রকাশ পায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব পিইডিপি-৫ অনুমোদনের পর বাস্তবায়িত হবে
- 📌 ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ ও নারীদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করা হবে
- 📌 নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যপুস্তকে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের গুম, গণহত্যা ও নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা
- 📌 ২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ অর্থবছর পর্যন্ত সব মাদ্রাসায় মিড-ডে মিল চালু করার কর্মসূচি
- 📌 বর্তমানে দেশে ৮ হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে, যার মধ্যে দাখিল ৫ হাজার ৭৬৮টি
- 📌 বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের কোনো পরিকল্পনা নেই
📰 বিস্তারিত
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী না থাকায় শিক্ষকদের ওপর দাপ্তরিক কাজের চাপ পড়ে। এই চাপ কমাতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদিত হলে এই পদ বাস্তবায়িত হবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষার্থীদের মানসিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশের লক্ষ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষা, চারুকলা ও সংগীতচর্চা বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি উপযোগী করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণ, ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্য পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরা হবে। এছাড়াও নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যপুস্তকে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসইডিপি কর্মসূচির আওতায় দেশের সব মাদ্রাসায় ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে ২০৩০–৩১ অর্থবছরের মধ্যে মিড-ডে মিল চালু করা হবে। এই কর্মসূচিতে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা ৮ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ৫ হাজার ৭৬৮টি, আলিম ১ হাজার ২৮৪টি, ফাজিল ৯৯৩টি ও কামিল মাদ্রাসা ১৮৪টি রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৮৭৩টি। এসব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই।
"প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী না থাকায় শিক্ষকদের ওপর দাপ্তরিক কাজের চাপ পড়ে। এ কারণে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। পিইডিপি-৫ অনুমোদিত হলে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ হাজার ২২৯টি মাদ্রাসা, ৫ হাজার ৭৬৮টি দাখিল মাদ্রাসা, ১ হাজার ৮৭৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!