📌 সাগর-রুনি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে কারাবন্দী থাকা মৌলভীবাজারের এনামুল আহমেদ ১৩ বছর ধরে কারাগারে বন্দী। পিবিআইয়ের তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় পরিবার মুক্তি দাবি করছে। এনামুলের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সাগর-রুনি হত্যা মামলায় শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে ১৩ বছর কারাবন্দী থাকা এনামুল আহমেদের পরিবার তাঁকে মুক্তি দিতে দাবি করছে। পিবিআইয়ের তদন্তে এনামুলের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তাঁর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে বলে জানা গেছে। পরিবার বলছে, দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকার কারণে তাঁর জীবন নষ্ট হয়ে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৩ বছর কারাবন্দী সাগর-রুনি হত্যা মামলার আসামি এনামুল আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
- 📌 মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে এনামুল, দীর্ঘ কারাবন্দীত্বের কারণে মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখিয়ে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের সময় এলোমেলো উত্তর দিয়েছে।
- 📌 স্বামী ও বাবা নির্যাতনের শিকার এনামুলের মা ফাতেমা বেগম জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী কালা মিয়া ও বাবা র্যাবের নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন।
- 📌 মামলা তদন্তে ব্যর্থতা সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে ডিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা ব্যর্থ হয়েছে। মামলাটি ১২৯ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- 📌 পরিবার আর্থিক ও মানসিক সংকটে এনামুলের বড় ভাই শাহিন আহমদ বলেছেন, পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং মামলা পরিচালনা করতে পারেনি।
📰 বিস্তারিত
সাগর-রুনি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব-দক্ষিণভাগ গ্রামের এনামুল আহমেদ (হুমায়ুন কবীর) ১৩ বছর ধরে কারাগারে বন্দী রয়েছে। পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এনামুলের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিন কারাবন্দীত্বের কারণে তাঁর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
এনামুলের মা ফাতেমা বেগম বলেছেন, “আমার ছেলে যদি দোষী হয়ে থাকে, আমরা তার বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু সাড়ে ১৩ বছরেও তার অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেল না। শুধু সন্দেহের কারণে আমার ছেলে কারাবন্দী রেখে আমাদের পরিবারটাকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁকে মুক্তি দেওয়া হোক।” তিনি আরও বলেছেন, “আমরা টিভিতে খবর দেখে জানতে পেরেছি, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে এনামুলের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এখন তাঁকে মুক্তি দেওয়া হোক। আমরা এত দিন ভয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। আমার ছেলের জীবন নষ্ট করার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।”
ফাতেমা বেগম জানিয়েছেন, এনামুলের গ্রেপ্তারের আগে তাঁর স্বামী কালা মিয়া (মকবুল আলী)ও র্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল। ২০১২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দোকানে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। ফাতেমা বলেন, “স্বামীর খোঁজে আমরা থানা-পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেছি। পরে একদিন তাঁর মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের কাছে ফোন আসে। সেখানে তিনি এনামুলের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। প্রায় ২১ দিন পর তাঁকে ভৈরবের কাছে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। বাড়িতে ফিরে তিনি জানিয়েছিলেন, সেখানে তাঁকে নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছিল। কারও সঙ্গে কথা বললে তাঁকে আবারও তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনার পর তিনি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় চিকিৎসা নিতে হয়েছে। প্রায় ছয়-সাত মাস আগে তিনি মারা যান।”
এনামুলের বড় ভাই শাহিন আহমদ বলেছেন, “ভাই গ্রেপ্তারের পর আমাদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকায় আমরা নিয়মিতভাবে মামলা পরিচালনা করতে পারিনি। বিপদে পড়ার আশঙ্কায় মামলা চালানোর ক্ষেত্রেও আমরা অনেকটা পিছিয়ে ছিলেন। বাবাকেও তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং পরে তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার কারণে এনামুলের মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না থাকলে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
"আমার ছেলে যদি দোষী হয়ে থাকে, আমরা তার বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু সাড়ে ১৩ বছরেও তার অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেল না।"
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশের পর গত ২২ এপ্রিল কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এনামুল আহমেদকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি কোনো প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি এবং এলোমেলো উত্তর দিচ্ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তাঁকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বন্দী থাকার কারণে এনাম বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তাঁকে সাধারণ বন্দীদের থেকে আলাদা একটি ওয়ার্ডে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দ্রুত সুচিকিৎসা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগর, ভৈরবের কাছে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এনামুল আহমেদ (হুমায়ুন কবীর), ফাতেমা বেগম, শাহিন আহমদ, কালা মিয়া (মকবুল আলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ বছর (কারাবন্দীত্ব), ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১২, ২১ দিন, ২২ এপ্রিল, ৬২ দিন, ১২৯ বার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!