📌 কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইউরোপীয় জেফ সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার আবেদন করেছেন। মার্কিন সম্পর্কের অবনতির পর কানাডা ইউরোপের সাথে সামরিক ও ডিপ্লোমেটিক সম্পর্ক বাড়াতে চায়। জোটের সদস্যরা রাশিয়ার হুমকি থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সামরিক প্রেরণার জন্য প্রস্তুত।
কানাডা ইউরোপীয় নেতৃত্বাধীন জেন্ট এক্সপিডিশনারি ফোর্স (জেফ) সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অবনতির পর কানাডা ডিপ্লোমেটিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের বৈচিত্র্য সৃষ্টির লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার যুক্তরাজ্যের একটি আনুষ্ঠানিক সফরে এই আবেদন জানান। তিনি ব্রাসেলসের ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উর্সুলা ফন ডার লেইয়েনের সাথে সাক্ষাতের পর যুক্তরাজ্যের সফর করেন। ফন ডার লেইয়েন কানাডাকে জোটের প্রথম ‘অ্যাসোসিয়েট মেম্বার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাজ্যের সফরে জেফ জোটে যুক্ত হওয়ার আবেদন করেন।
- 📌 ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উর্সুলা ফন ডার লেইয়েন কানাডাকে জোটের ‘অ্যাসোসিয়েট মেম্বার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন।
- 📌 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অবনতির পর কানাডা ইউরোপের সাথে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে চায়।
- 📌 জেফ জোটের সদস্যরা রাশিয়ার হুমকি থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সামরিক প্রেরণার জন্য প্রস্তুত।
- 📌 যুক্তরাজ্য জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে, কিন্তু ব্রিটিশ সংসদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য নিজের নিরাপত্তা ও জোটের দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট বাজেট বরাদ্দ করছে না।
📰 বিস্তারিত
২০১৪ সালে গঠিত জেফ জোটে বর্তমানে দশটি ইউরোপীয় দেশ অংশগ্রহণ করছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো উত্তর সাগর, উত্তর আটলান্টিক-আর্কটিক অঞ্চল এবং বাল্টিক সাগর এলাকায় রাশিয়ার হুমকি থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জোটের সদস্য দেশগুলো হলো ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এবং সুইডেন। জোটের সদস্য হওয়ার জন্য একটি সাধারণ রণনীতির প্রয়োজন, যার মধ্যে উত্তর ইউরোপের নিরাপত্তা, উচ্চ উত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তা, উত্তর আটলান্টিক ও বাল্টিক সাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন-কানুনের প্রতি বিশ্বাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জেফ জোটের সদস্যরা স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করে এবং তাদের মধ্যে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও বিশ্বাস থাকতে হবে। জোটের উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের নিম্ন স্তরের হুমকি মোকাবেলা করা, যেখানে ন্যাটো-এর ‘একজন আক্রমণ করা হলো সবাই আক্রমণ করা’ নীতির কারণে উচ্চতর ঝুঁকি থাকতে পারে। জোটের দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনীতে প্রায় ১০,০০০ সৈন্য রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে জোটকে প্রেরণ করা হয়নি।
ব্রিটিশ সাংসদীয় প্রতিরক্ষা কমিটির একটি সমালোচনামূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য নিজের নিরাপত্তা ও জোটের দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট বাজেট বরাদ্দ করছে না। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ন্যাটো-এর দায়িত্ব পালনে পিছিয়ে পড়েছে এবং নিজের দাবী করা নেতৃত্বের অবস্থান থেকে অনেক দূরে রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্য তার জিডিপির ২.৬ শতাংশ বাজেট সামরিক খাতে বরাদ্দ করে, যা ন্যাটো-এর ২০৩৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা ৩.৫ শতাংশের চেয়ে কম।
ব্রিটিশ নীতি বিশ্লেষণ সংস্থা রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (রুসি) এবং চাথাম হাউসের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক কিয়ার গিলসের মতে, যুক্তরাজ্যের সামরিক বাজেটের অভাবের কারণে জেফ জোটের সম্ভাবনা কমে গেছে। তবে কানাডার অন্তর্ভুক্তি নতুন পরিবর্তন আনতে পারে। গিলস বলেন, “যুক্তরাজ্যের সামরিক ক্ষমতার অভাবের কারণে জোটটি যথেষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়নি। তবে সদস্যপদে পরিবর্তন আনলে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে।”
"এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য (লন্ডন), ব্রাসেলস (বেলজিয়াম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উর্সুলা ফন ডার লেইয়েন, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক কিয়ার গিলস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০,০০০ (জেফের দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা), ২.৬% (যুক্তরাজ্যের সামরিক বাজেটের জিডিপি অনুপাত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!