📌 পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের নতুন কৌশল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘হিলটপ গার্লস’ নামে পরিচিত এক দল তরুণী। তারা অস্ত্রের পরিবর্তে দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে ভূমি দখলের বৈধতা দিতে চায়। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তারা কীভাবে ফিলিস্তিনি ভূমিকে ইসরায়েলি বসতিতে পরিণত করছে?
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের নতুন কৌশল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘হিলটপ গার্লস’ নামে পরিচিত এক দল তরুণী। তারা সামরিক শক্তির পরিবর্তে সাধারণ গৃহস্থালির কাজের মাধ্যমে ভূমি দখলের বৈধতা দিতে চায়। এই দলটি ‘নরম বসতি’ কৌশলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূমিকে ইসরায়েলি বসতিতে পরিণত করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পশ্চিম তীরে ‘হিলটপ গার্লস’ নামে পরিচিত ইসরায়েলি তরুণীদের দল ভূমি দখলের নতুন কৌশল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে
- 📌 দলটি ‘নরম বসতি’ কৌশলের মাধ্যমে সাধারণ গৃহস্থালির কাজকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে
- 📌 দলটির লক্ষ্য হলো ‘প্রাচীন ইসরায়েল’ ধারণাকে বাস্তবায়ন করা, যা মিশর, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক এবং আরব উপদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত
- 📌 মাওজ এস্টার ও অর আহুভিয়া নামে পরিচিত দুটি ইসরায়েলি বসতি এই দলের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে
- 📌 ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনী এই দলকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে বলে মানবাধিকার সংস্থা বিটসেলেমের অভিযোগ
- 📌 ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই দলের কার্যকলাপে ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের ঘটনা বেড়েছে
📰 বিস্তারিত
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের নতুন কৌশল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘হিলটপ গার্লস’ নামে পরিচিত এক দল তরুণী। তারা সামরিক শক্তির পরিবর্তে সাধারণ গৃহস্থালির কাজের মাধ্যমে ভূমি দখলের বৈধতা দিতে চায়। এই দলটি ‘নরম বসতি’ কৌশলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূমিকে ইসরায়েলি বসতিতে পরিণত করছে। দলটির সদস্যরা নিজেদেরকে সাধারণ গৃহিণী হিসেবে উপস্থাপন করলেও তাদের মূল লক্ষ্য হলো ‘প্রাচীন ইসরায়েল’ ধারণাকে বাস্তবায়ন করা, যা মিশর, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক এবং আরব উপদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই দলটির উত্থান ঘটেছে ‘হিলটপ ইয়ুথ’ নামে পরিচিত আরও উগ্র ধর্মীয় জায়নবাদী দলের অংশ হিসেবে। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারনের নেতৃত্বে এই দলটি গঠিত হয়েছিল। দলটি পশ্চিম তীরের পাহাড়ি অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে চায়।
‘হিলটপ গার্লস’ দলটি সামাজিক মাধ্যমকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। তারা তাদের উপস্থিতিকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরতে প্রচারাভিযান চালাচ্ছে। দলটির সদস্যরা দাবি করছে যে তারা ফিলিস্তিনিদের হত্যা বা ভূমির মালিকদের উপর হামলা করছে না, বরং সাধারণ গৃহস্থালির কাজ করছে। তবে তাদের মূল লক্ষ্য একই রয়ে গেছে—পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি উপস্থিতি জোরদার করা।
মাওজ এস্টার ও অর আহুভিয়া নামে পরিচিত দুটি ইসরায়েলি বসতি এই দলের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। মাওজ এস্টার বসতি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে এটি বহুবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই বসতিতে ১৭টি পরিবার এবং ৫০টিরও বেশি শিশু বসবাস করছে। এটি প্রতিবেশী কোচাভ হাশাহার বসতির চেয়ে আয়তনে বড়। অর আহুভিয়া বসতি ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ভবিষ্যতে আরও বড় বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজ করছে।
ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনী এই দলকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে বলে মানবাধিকার সংস্থা বিটসেলেমের অভিযোগ। দলটির সদস্যরা সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য ও পোশাকের ভর্তুকি। ইসরায়েলি সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পাচ্ছে এই দলটি।
ইসরায়েলি সরকারের সমর্থনের ফলে দলটির কার্যকলাপ আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে ইসরায়েলি সংসদ ‘ল্যান্ড অব ইসরায়েল’ লবির প্রস্তাবিত একটি বিল পাস করেছে, যা ইহুদিদের পশ্চিম তীরে ভূমি ক্রয়কে বৈধতা দেয়। দলটির নেতারা যেমন বেজালেল স্মোট্রিচ এবং ইতামার বেন-গিভির সরকারের কাছ থেকে সরাসরি সমর্থন পাচ্ছেন।
"হিলটপ গার্লস"
"নরম বসতি"
"প্রাচীন ইসরায়েল"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পশ্চিম তীর
- 👥 দলটির সদস্যরা: ইসরায়েলি তরুণী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭টি পরিবার, ৫০টিরও বেশি শিশু, ৯৫০ ডুনাম ভূমি, ২০টি বসতি, ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!