📌 বিশ্বজুড়ে পানিসংক্রান্ত বিরোধ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্টকহোমে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়াটার ফর পিপল অ্যান্ড প্রোগ্রেস’ শীর্ষক সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। ২০২৪ সালে পানিসংক্রান্ত ৪২০টি বিরোধ নথিভুক্ত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি
স্টকহোম আন্তর্জাতিক পানি ইনস্টিটিউট (এসআইডব্লিউআই) আয়োজিত ‘ওয়াটার ফর পিপল অ্যান্ড প্রোগ্রেস’ শীর্ষক বার্ষিক সম্মেলন শুরু হবে রোববার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এবং অনলাইনেও অনুষ্ঠিত হবে। পানিসংক্রান্ত নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে পানিসংক্রান্ত ৪২০টি বিরোধ নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি।
- 📌 পানিসংক্রান্ত বিরোধের প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে পানির অবকাঠামোতে হামলা, প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ এবং যুদ্ধের সময় পানি সরবরাহকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা।
- 📌 ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৯০ শতাংশ পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে দৈনিক মাত্র ৬ লিটার পানি সংগ্রহ করতে পারছে মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ।
- 📌 সুদানে যুদ্ধের কারণে পানিসংক্রান্ত অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কলেরা মহামারি দেখা দিয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় পানির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির পানির সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
স্টকহোম আন্তর্জাতিক পানি ইনস্টিটিউট (এসআইডব্লিউআই) আয়োজিত ‘ওয়াটার ফর পিপল অ্যান্ড প্রোগ্রেস’ শীর্ষক বার্ষিক সম্মেলন শুরু হবে রোববার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এবং অনলাইনেও অনুষ্ঠিত হবে। পানিসংক্রান্ত নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
প্যাসিফিক ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে পানিসংক্রান্ত ৪২০টি বিরোধ নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি। এই বিরোধের প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে পানির অবকাঠামোতে হামলা, প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ এবং যুদ্ধের সময় পানি সরবরাহকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা।
প্যাসিফিক ইনস্টিটিউটের ‘ওয়াটার কনফ্লিক্ট ক্রোনোলজি’ অনুসারে, পানিসংক্রান্ত বিরোধকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে: ক্ষতিগ্রস্ততা, ট্রিগার এবং অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার। ২০২৪ সালে ৫৫ শতাংশ বিরোধ ছিল ক্ষতিগ্রস্ততার কারণে, ২৮ শতাংশ ছিল প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধের কারণে এবং মাত্র ২ শতাংশ ছিল পানি সরবরাহকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কারণে।
"Water for People and Progress"
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১.৯ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যেখানে ৯০ শতাংশ পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ দৈনিক মাত্র ৬ লিটার পানি সংগ্রহ করতে পারছে। চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, পানির দাম ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুদানে গৃহযুদ্ধের কারণে প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৩০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। জেনেভা একাডেমির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদানের দারফুর অঞ্চলে পানির অবকাঠামোতে বারবার হামলা হয়েছে, যার ফলে কলেরা মহামারি দেখা দিয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় দেশটির পানির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের কেসম দ্বীপ এবং হরমোজগান প্রদেশে অবস্থিত বিশুদ্ধিকরণ কেন্দ্র এবং জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানির সংকটে পড়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: স্টকহোম, সুইডেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্টকহোম আন্তর্জাতিক পানি ইনস্টিটিউট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২০ (পানিসংক্রান্ত বিরোধ), ৭৮ শতাংশ (বৃদ্ধির হার), ৯০ শতাংশ (গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!