📌 বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট ১৯৭০ সাল থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ৯৬ বছর বয়সে তিনি দায়িত্ব ছেড়েছেন এবং ‘সময় সবসময় জয়ী’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ছেলে হাওয়ার্ড বাফেট নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন
বিশ্বের অন্যতম সফল বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট ৫৩ বছর দীর্ঘ চেয়ারম্যানশিপের অবসান ঘটিয়েছেন। ১৯৭০ সাল থেকে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা তিনি শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দায়িত্ব ছেড়ে দেন। ৯৬ বছর বয়সী বাফেট গত বছরের শেষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদও ছাড়েন। তার ছেলে হাওয়ার্ড বাফেট নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭০ সাল থেকে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ওয়ারেন বাফেট ১৮ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন।
- 📌 ৯৬ বছর বয়সী বাফেট ‘ইমেরিটাস চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন।
- 📌 বাফেটের ছেলে হাওয়ার্ড বাফেট ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।
- 📌 বাফেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সময় সব সময়ই জয়ী হয়’।
- 📌 বাফেটের নেতৃত্বে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বাজারমূল্য বছরে গড়ে ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 বর্তমানে বাফেটের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার।
- 📌 বাফেটের মৃত্যুর পর ৯৯ শতাংশ সম্পদ দাতব্য কাজে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
- 📌 পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য ও ৬ জন বেসামরিক নাগরিক।
📰 বিস্তারিত
বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের নেতৃত্বে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়েকে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। মূল্যভিত্তিক বিনিয়োগের দর্শন অনুসরণ করে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে এক বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করেছেন। বাফেটের নেতৃত্বে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বাজারমূল্য বছরে গড়ে ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক বাজারের প্রবৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বর্তমানে ব্লুমবার্গের বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার।
বাফেট শুক্রবার শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে জানান, নতুন সিইও গ্রেগ অ্যাবেল তাঁর প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছেন। তিনি দায়িত্ব ছাড়ার কারণ হিসেবে বয়স উল্লেখ করেন। নিজের এক বছর বয়সী প্রপৌত্রের সঙ্গে তুলনা করে তিনি লেখেন, ‘তাঁর প্রপৌত্র এখন তাঁর চেয়ে একটু দ্রুত’ চলাফেরা করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সময় সব সময়ই জয়ী হয়’।
বাফেটের দাতব্য কাজে অবদানও উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০১০ সালে বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের সঙ্গে ‘দ্য গিভিং প্লেজ’ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের ধনীদের অন্তত অর্ধেক সম্পদ দাতব্য কাজে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা। বাফেটের মৃত্যুর পর ৯৯ শতাংশের বেশি সম্পদ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
বাফেটের জীবনযাপনও সাধারণ ছিল। তিনি ১৯৫৮ সালে ৩১ হাজার ৫০০ ডলারে কেনা ওমাহার একই বাড়িতে জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন। কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৫১ সালে বাবার বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে। ১৯৫৬ সালে নিজস্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গড়েন। ১৯৬২ সালে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ার কেনা শুরু করেন এবং ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে বিমা, রেলপথ, পোশাক ও খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত করেন।
"সময় সব সময়ই জয়ী হয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওমাহা (আমেরিকা), খাইবার পাখতুনখাওয়া (পাকিস্তান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওয়ারেন বাফেট, হাওয়ার্ড বাফেট, গ্রেগ অ্যাবেল, বিল গেটস, মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৬ বছর, ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯ শতাংশ, ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, ৯৯ শতাংশ, ৩১ হাজার ৫০০ ডলার, ২৭ জন, ১৫ জন পুলিশ সদস্য, ৬ জন বেসামরিক নাগরিক, ৭৫ জন আহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!