📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, এমএসএনবিও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের বাদ দিয়েছেন। তারা সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ভঙ্গের অভিযোগ করে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, এই গণমাধ্যমগুলো 'ভুয়া খবর' প্রকাশ করে
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, এমএসএনবিও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ফেলেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এই তিনটি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের প্রেস পাস কেড়ে নেওয়া হয়। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, এই তিনটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে কাজ করার অনুমতি থাকবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হোয়াইট হাউস প্রবেশ নিষিদ্ধ: সিএনএন, এমএসএনবিও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস থেকে বাদ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
- 📌 সংবিধান ভঙ্গের অভিযোগ: তিনটি গণমাধ্যমই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ভঙ্গের অভিযোগ করে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
- 📌 ‘ভুয়া খবর’ অভিযোগ: ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে এই গণমাধ্যমগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ আনেন।
- 📌 নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টেরও লক্ষ্য: ট্রাম্প ‘ভুয়া খবরের’ উদাহরণ হিসেবে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টকে উল্লেখ করেন।
- 📌 পূর্বের নিষেধাজ্ঞা স্মরণ: ট্রাম্পের প্রশাসন আগেও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকদের বাদ দিয়েছিলেন।
📰 বিস্তারিত
শনিবার সকালে সিএনএন, এমএসএনবিও ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের প্রেস পাস কেড়ে নেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা মুক্ত মতপ্রকাশ ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সিএনএন এক বিবৃতিতে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সাংবাদিকতা করার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর ‘অবৈধ হামলা’।
এমএসএনবিও ও পলিটিকো জানিয়েছে, তারা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে। তারা বলেছে, গণতন্ত্রে স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিএনএন ও এমএসএনবিও ঘোষণা দিয়েছে, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ অব্যাহত রাখবে। পলিটিকো জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের খবর সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পাশে থাকবে তারা।
গতকাল (১৮ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই তিনটি গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ আনেন। তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের সময় তাদের অবিরামভাবে কল্পকাহিনি ও মিথ্যা লেখার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আরও কিছু ভুয়া খবরের গণমাধ্যমকেও পাকড়াও করা হবে’। ট্রাম্পের পোস্টে ‘আরও কিছু সংবাদমাধ্যম’ বলতে তিনি কী বোঝাচ্ছেন, তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে ‘ভুয়া খবরের’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এসব সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার কথা তিনি সরাসরি বলেননি।
নিউইয়র্ক টাইমস এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘আরেকটি প্রতিহিংসামূলক ও অসাংবিধানিক হুমকি’ বলে অভিহিত করেছে। পত্রিকাটি বলেছে, প্রেসিডেন্টের অন্যায়ভাবে নিশানা করা সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য নতুন নয়। আগেও তিনি নির্দিষ্ট কিছু সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিককে হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রবেশে বাধা দিয়েছেন। গত বছর ট্রাম্প মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্টের কর্মসূচি কাভার করার সাংবাদিকদের দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন। কারণ, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তারা মেক্সিকো উপসাগরকে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামে অভিহিত করলেও এপি ট্রাম্পের পছন্দের নামটি গ্রহণ করেনি। এপি এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তাঁর প্রশাসন প্লেবয় সাময়িকীর প্রতিবেদক ব্রায়ান কারেম ও সিএনএনের জিম অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস বাতিল বা স্থগিত করার চেষ্টা করেছিল। তবে ফেডারেল বিচারকেরা তাঁদের হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।
"এ নিষেধাজ্ঞা সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সাংবাদিকতা করার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর ‘অবৈধ হামলা’"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন (হোয়াইট হাউস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, সিএনএন, এমএসএনবিও, পলিটিকো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩টি গণমাধ্যম (সিএনএন, এমএসএনবিও, পলিটিকো)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!