📌 মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, পারস্য উপসাগরে ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। এর মধ্যে দুটি খার্গ দ্বীপের উপকূলে এবং একটি ওমান উপসাগরে অবস্থিত ছিল। মার্কিন কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি ইরান মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে তাদের আরও বড় মূল্য দিতে হবে
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরে ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরী এবং গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের উপর ইরান হামলা চালালে মার্কিন বাহিনী প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই তিনটি জাহাজ ধ্বংস করেছে। মার্কিন কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই তিনটি ট্যাংকার ছিল একটি বহু বিলিয়ন ডলারের ‘ছায়া নেটওয়ার্কের’ অংশ, যা আইআরজিসি এবং তাদের সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তহবিলের জোগান দিতো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, পারস্য উপসাগরে ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী।
- 📌 ধ্বংস করা জাহাজগুলো ছিল ‘এম/টি ডাউনি’, ‘এম/টি স্টার্ক ১’ (খার্গ দ্বীপের উপকূলে) এবং ‘এম/টি কাইলো’ (ওমান উপসাগরে)।
- 📌 মার্কিন কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার তেহরানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আইআরজিসির উদ্দেশে আমাদের বার্তা স্পষ্ট—আপনারা যদি আমাদের জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালান, তবে আপনাদের আরও চড়া মূল্য দিতে হবে।’
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খার্গ দ্বীপকে ‘ছারখার’ করা হচ্ছে।
- 📌 ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই পরিচালিত হতো খার্গ দ্বীপের ট্রানজিট পয়েন্ট দিয়ে।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পারস্য সাগরে টহলরত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরী এবং একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের উপর ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো সফলভাবে সেই হামলা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়। কোনো মার্কিন সেনাসদস্য আঘাত পাননি বা ক্ষতিগ্রস্ত হননি। ইরানের এই প্রতিক্রিয়া জবাবে মার্কিন বাহিনী খার্গ দ্বীপের উপকূলে অবস্থানরত ‘এম/টি ডাউনি’ এবং ‘এম/টি স্টার্ক ১’ নামে দুটি তেল ট্যাংকার স্থায়ীভাবে অচল ও ধ্বংস করে দিয়েছে। এছাড়াও ওমান উপসাগরে থাকা ‘এম/টি কাইলো’ (যা ‘নোক্সেন’ নামেও পরিচিত) নামে আরেকটি খালি ট্যাংকারও অচল করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
মার্কিন কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ছিল একটি বহু বিলিয়ন ডলারের ‘ছায়া নেটওয়ার্কের’ অংশ, যা আইআরজিসি (ইরানীয় বিপ্লবী গার্ড কর্পস) এবং তাদের সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তহবিলের জোগান দিতো। মার্কিন কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার তেহরানকে উদ্দেশ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আইআরজিসির উদ্দেশে আমাদের বার্তা স্পষ্ট—আপনারা যদি আমাদের জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালান, তবে আপনাদের আরও চড়া মূল্য দিতে হবে। প্রয়োজনে ইরানের এই অরক্ষিত তেল বহর পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’
এই ঘটনার আগে আজ শনিবারই ইরানি আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছিল, পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ইরানি ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে তাসনিম নিশ্চিত করেছে, বিস্ফোরণের আগে ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কারণে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য, ইরান ওপেক-এর তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই পরিচালিত হতো খার্গ দ্বীপের ট্রানজিট পয়েন্ট দিয়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খার্গ দ্বীপকে ‘ছারখার’ করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, ‘এই অঞ্চলে আমাদের শক্তি দেখানো হয়েছে। ইরানের এই অরক্ষিত তেল বহর ধ্বংস করা হয়েছে, যা তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে দুর্বল করবে।’
"আইআরজিসির উদ্দেশে আমাদের বার্তা স্পষ্ট—আপনারা যদি আমাদের জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালান, তবে আপনাদের আরও চড়া মূল্য দিতে হবে। প্রয়োজনে ইরানের এই অরক্ষিত তেল বহর পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পারস্য উপসাগর, খার্গ দ্বীপ (ইরান), ওমান উপসাগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার (মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার), ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩টি তেলবাহী ট্যাংকার, ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি (খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!