📌 যুক্তরাষ্ট্রে এআই ব্যবহারের কোনো জাতীয় নীতিমালা না থাকায় স্কুলশিক্ষার্থীরা নিজেরাই তৈরি করেছে 'স্টুডেন্টস ফার্স্ট অ্যাক্ট'। ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৯৮ শিক্ষার্থীর উদ্যোগে গৃহীত এই প্রস্তাব গ্রেড পরীক্ষায় এআই নিষিদ্ধসহ শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারের সীমারেখা নির্ধারণ করেছে
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় স্কুলশিক্ষার্থীরাই নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছে এআই ব্যবহারের জন্য একটি নীতিমালা। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৯৮ কিশোর-কিশোরীর সমন্বয়ে গঠিত দলটি ‘স্টুডেন্টস ফার্স্ট অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই প্রস্তাবটি তৈরি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে এআই ব্যবহারের জন্য কোনো জাতীয় নীতিমালা ছিল না
- 📌 ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৯৮ শিক্ষার্থী মিলে তৈরি করেছে ‘স্টুডেন্টস ফার্স্ট অ্যাক্ট’
- 📌 জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ৮২-১৬ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়
- 📌 গ্রেড পরীক্ষায় এআই ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং অষ্টম শ্রেণির পর শিক্ষার্থীরা এআই দিয়ে সম্পাদনা ও ধারণা তৈরি করতে পারবে
- 📌 এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই তা উল্লেখ করতে হবে এবং মানুষের মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে এআই ব্যবহারের বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা গ্রহণ করছিল। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৯৮ শিক্ষার্থী মিলে নিজেদের উদ্যোগে এআই ব্যবহারের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। তাদের উদ্যোগে তৈরি ‘স্টুডেন্টস ফার্স্ট অ্যাক্ট’ নামের এই প্রস্তাবটি জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ওয়াশিংটনের এডওয়ার্ড এম কেনেডি ইনস্টিটিউট ফর দ্য ইউনাইটেড স্টেটস সিনেটের প্রতিকৃতি সিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উত্থাপন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, গ্রেড দেওয়া পরীক্ষায় এআই ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে অষ্টম শ্রেণির পর শিক্ষার্থীরা এআই দিয়ে সম্পাদনা, ধারণা তৈরি ও পড়াশোনায় সহায়তা নিতে পারবে। কিন্তু সরাসরি লেখা তৈরি করতে পারবে না। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে তারা কোথায় এবং কীভাবে এআই ব্যবহার করেছে। কোনো শিক্ষার্থীর কাজে এআই ব্যবহারের সন্দেহ হলে শুধু এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর না করে অন্তত দুজন স্কুল কর্মকর্তাকে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও প্রস্তাব করেছে যে শ্রেণিকক্ষে ডিভাইস ব্যবহারের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের এআই বিষয়ে মৌলিক শিক্ষা দেওয়া উচিত। এর মাধ্যমে এআইয়ের মাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য, পক্ষপাত, চৌর্যবৃত্তি, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা সম্ভব হবে। শিক্ষকদের জন্য প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, তারা পাঠ পরিকল্পনা, অনুশীলনী তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক দেওয়ার জন্য এআই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে প্রতি সেমিস্টারে তাদের লিখিতভাবে জানাতে হবে কোন কাজে এআই ব্যবহার করা হয়েছে।
এছাড়া স্কুলের এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী মানসিক সংকটের কথা জানালে চ্যাটবট নিজে থেকে পরামর্শ না দিয়ে স্কুলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে সতর্ক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজকদের একজন এবং ডে অব এআইয়ের নির্বাহী পরিচালক জেফ্রি রাইলি বলেন, বড়রা এআই নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
"বড়রা এআই নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি। তাই এবার শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু স্কুলে এআই ব্যবহারের নিয়ম তৈরি করা নয়; বরং এআইয়ের যুগে শিক্ষার্থীদের কীভাবে শেখানো হবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য কীভাবে প্রস্তুত করা হবে, সে প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থীরা, জেফ্রি রাইলি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ (টি অঙ্গরাজ্য), ৯৮ (শিক্ষার্থী), ৮২-১৬ (ভোট), ১০ হাজার (স্কুলনেতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!