📌 যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিলন পদত্যাগ করেছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পদত্যাগের পর তিনি নিজের আইন প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ধিলন ল গ্রুপে’ ফিরে যাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিলন পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ধিলন তার দায়িত্বকালে বিভাগটির কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ধিলন প্রথম পদত্যাগকারীদের একজন হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিলন পদত্যাগ করেছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
- 📌 পদত্যাগের পর তিনি নিজের আইন প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ধিলন ল গ্রুপে’ ফিরে যাবেন।
- 📌 ধিলনের নেতৃত্বে বিভাগটি ডিইআই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইহুদিবিদ্বেষ ও বৈচিত্র্য নীতি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করে।
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাপ দেওয়ার ফলে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করতে হয়।
- 📌 নাগরিক অধিকার সংগঠন জাস্টিস কানেকশন ধিলনের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছে।
📰 বিস্তারিত
হারমিত ধিলন পদত্যাগের ঘোষণা দেন গত অক্টোবর থেকেই। তিনি হোয়াইট হাউসকে পদ ছাড়ার পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন। পদত্যাগের পর তিনি নিজের আইন প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ধিলন ল গ্রুপে’ ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন। ধিলনের নেতৃত্বে নাগরিক অধিকার বিভাগে বড় ধরনের পুনর্গঠন করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে বিভাগটি ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং বর্ণবৈষম্যবিরোধী আইন বাস্তবায়নে কাজ করত। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার অনুযায়ী এর কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়।
বিশেষ করে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ (ডিইআই) চ্যালেঞ্জ করা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তদন্ত এবং অস্ত্র বহনের অধিকারসংক্রান্ত মামলা গুরুত্ব পায়। এসব পরিবর্তনের ফলে বিভাগটির দীর্ঘদিনের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। ধিলনের অভিযোগ ছিল, বিভাগের আইনজীবীরা আগে উদারপন্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নে অনাগ্রহী ছিলেন।
ধিলন পদত্যাগের ঘোষণায় নিজের দায়িত্বকালকে সফল হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, অবৈধ ডিইআই কার্যক্রমের পতন ঘটানো এবং নারীদের ও মেয়েদের খেলাধুলার অধিকার সুরক্ষায় তারা লড়াই করেছেন। তবে দুটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পদোন্নতি না পাওয়ায় তিনি হতাশ ছিলেন। এ কারণে নিজের আইন প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে শক্তিশালী করতে তিনি সেখানে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।
"গত অক্টোবরেই হোয়াইট হাউসকে পদ ছাড়ার পরিকল্পনা জানিয়েছিলাম। এখন ফিরে যাচ্ছি নিজের প্রতিষ্ঠানে।"
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাপ ও বিতর্কিত তদন্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে বিভাগটি। এসব তদন্তের মূল বিষয় ছিল ইহুদিবিদ্বেষ, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি এবং হিজড়া ব্যক্তিদের অধিকারসংক্রান্ত অভিযোগ। এসব তদন্তের ফলে দেশটির কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে শত শত মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা আদায় করে ট্রাম্প প্রশাসন। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টকেও পদত্যাগ করতে হয়। তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বড় অঙ্কের অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা করে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকানোর প্রচেষ্টায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভাগটি। যদিও স্বাধীন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশটিতে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ একাধিক মামলা করলেও সেগুলোতে হেরে যায়। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় এক হাজার কর্মীও মোতায়েন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মামলায় যুক্ত ছিল বিভাগটি। গত জানুয়ারিতে মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে একটি গির্জার উপাসনাকর্মে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সিএনএন উপস্থাপক ডন লেমনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে বিভাগটি। এছাড়া ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে হামলার দিন ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক হোয়াইট হাউস সহযোগী ক্যাসিডি হাচিনসনের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি অভিযোগ আনার চেষ্টা করেছিল বিভাগটি। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হারমিত ধিলন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্টেসি ইয়ং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ নভেম্বর, ৬ জানুয়ারি, ৭০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!