📌 জাতিসংঘের স্বাধীন অনুসন্ধান মিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধের মতো এবং ইরান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে। প্রতিবেদনে ৩ হাজার ৩৮ জনেরও বেশি নিহতের সম্ভাবনা ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্বিচার হামলার অভিযোগ উঠেছে
জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান মিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে দুটি সামরিক হামলা যুদ্ধাপরাধের মতো এবং ইরান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। মিশনটি বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে, যা জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘের মিশন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে স্কুল ও ক্রীড়া স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধের মতো — বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্বিচার আক্রমণ
- 📌 ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি নিহত, যার মধ্যে ১২০ জন স্কুলশিক্ষার্থী
- 📌 ইরান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও নির্বিচারে আটক চালিয়েছে — সরকারি তথ্যানুযায়ী ৩ হাজার ৩৮ জন নিহত ও ২৫ হাজার আহত
- 📌 জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মার্কিন বাহিনী স্কুলটিকে সামরিক লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেনি, হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে জেনেও আক্রমণ চালানো হতে পারে
- 📌 ফিজি দেশে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত — জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড ইরানে যুদ্ধাপরাধের মতো। বিশেষত, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনীর দুটি হামলা — একটি স্কুল এবং একটি ক্রীড়া স্থাপনায় — যুদ্ধাপরাধের মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। মিশনটি জানিয়েছে, ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যার মধ্যে প্রায় ১২০ জন ছিল স্কুলশিক্ষার্থী। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্কুলটিকে সামরিক লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত না করে হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
অন্যদিকে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে মিশনটি তীব্র সমালোচনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা, হত্যা, ইন্টারনেট বন্ধ এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার ইরানে ভিন্নমত দমনের আগের প্রবণতার তুলনায় উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটিয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে ৩ হাজার ৩৮ জন নিহত ও ২৫ হাজার আহত হয়েছে, তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
মিশনটি জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে। তবে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্কুলটিকে সামরিক লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত না করে হামলা চালানো হয়েছে, যা যুদ্ধাপরাধের মতো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের বক্তব্য ছিল, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুলে হামলা করেনি। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তের প্রাথমিক ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ইরান সরকার দেশটিতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তবে জাতিসংঘের মিশন এই অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পেয়েছে।
"ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী—এমন বিশ্বাস করার মতো ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। হামলাটি ছিল নির্বিচার এবং বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরানের মিনাব শহর (শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়), যুক্তরাষ্ট্র, ফিজি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা, মার্কিন কর্মকর্তারা, ইরানি কর্মকর্তারা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০ জন (নিহত), ১২০ জন (স্কুলশিক্ষার্থী), ৩ হাজার ৩৮ জন (সরকারি তথ্যানুযায়ী নিহত), ২৫ হাজার (আহত), প্রতি ৬০ জনের মধ্যে ১ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত (ফিজি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!