📌 জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় ইরানের একটি স্কুলে ১৭৫ জনের বেশি নিহত হয়, যার মধ্যে ১২০ জন শিক্ষার্থী। হামলাটি যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে
জাতিসংঘের স্বতন্ত্র ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় ইরানের একটি স্কুল ও ক্রীড়া কেন্দ্রে বেসামরিক নাগরিকদের জীবনহানি ঘটায়। এ ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধের শামিল ঘোষণা করা হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের একটি বিদ্যালয় ও ক্রীড়া স্থাপনায় নির্বিচার হামলা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন সামরিক হামলায় ১৭৫ জনের বেশি নিহত, যার মধ্যে ১২০ জন শিক্ষার্থী
- 📌 জাতিসংঘের তদন্তে স্কুলটিকে স্পষ্টভাবে বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল না
- 📌 মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ভুলভাবে ব্যবহার করে হামলার স্থান নির্ধারণ করেছিলেন
- 📌 ইরানের লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে মার্কিন হামলায় ২২ জন বেসামরিক নাগরিক আহত বা নিহত হন
- 📌 প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, ইরানকে দায়ী করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভুল নিশানা দায়ী করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের স্বতন্ত্র ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং মিশন অন ইরান বৃহস্পতিবার তাদের নতুন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই হামলায় প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। জাতিসংঘের তদন্তে স্কুলটিকে স্পষ্টভাবে বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের দক্ষিণে মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জড়িত থাকার যুক্তিসংগত ভিত্তি পাওয়া গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির দেওয়া পুরোনো তথ্য ব্যবহার করে হামলার স্থান নির্ধারণ করেছিলেন। স্কুল ভবনের পাশেই অবস্থিত একটি ইরানি ঘাঁটিতে হামলার সময় এ ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, বিদ্যালয় ভবনটি আগে ওই ঘাঁটিরই অংশ ছিল।
তদন্তের বিষয়ে অবহিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির দেওয়া পুরোনো তথ্য ব্যবহার করে হামলার স্থান নির্ধারণ করেছিলেন। শিশুদের দিয়ে পরিপূর্ণ একটি স্কুলে হামলার এ ঘটনা নিশ্চিতভাবে সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সামরিক ভুল হিসেবে নথিবদ্ধ হতে যাচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এ হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা অন্তত ১৭৫, যাদের প্রায় সবাই শিশু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই স্থানে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডার থাকার তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছিল। তবে হামলার আগে সেই গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করা হয়নি। তদন্তকারীদের মতে, লক্ষ্যবস্তু–সম্পর্কিত তথ্য হালনাগাদ না করা এবং ভবনটি সামরিক স্থাপনা কি না, তা নিশ্চিত না করার ঘটনা শুধু অবহেলা হিসেবে দেখার মতো নয়।
এছাড়াও, ইরানের লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে মার্কিন হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্তকারীরা হামলাটিকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে সিদ্ধান্তে এসেছে।
"মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিশানাগত ভুলের কারণে একটি স্কুলে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের শামিল। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১২০ জন শিক্ষার্থী ছিল, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিনাব ও লামার্দ শহর, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাতিসংঘের তদন্তকারীরা, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা, ইরানি কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৫ জন নিহত (১২০ জন শিক্ষার্থী), ২২ জন আহত/নিহত (ক্রীড়া কেন্দ্রে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!