📌 বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও হিমবাহের অবনতি নেপাল ও চীনের বন্যা দুর্যোগের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই দুর্যোগে ১৪৪৬ জনের মৃত্যু ও ৬৬৬৯ জন অদৃশ্য হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে এই বিষয়ে আলোচনা করবেন
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও হিমবাহের অবনতির কারণে নেপাল ও চীনে ঘটে যাওয়া মহাপ্রলয়ী বন্যা দুর্যোগে ১৪৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬৬৬৯ জনেরও খোঁজ নেই। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই দুর্যোগের মূল কারণ ছিল দীর্ঘকালীন উষ্ণায়ন, হিমবাহের পতন, স্থায়ী বরফের গলন এবং ভূতাত্ত্বিক অস্থিরতা। বিশ্ব আবহাওয়ার সংস্থা (ডব্লিউডাব্লিউএ) এর গবেষণায় বলা হয়েছে, এই দুর্যোগটি একক আবহাওয়াবিদ্যা ঘটনার ফল নয়, বরং একটি ‘সংকটের সমষ্টি’ যা দীর্ঘমেয়াদী উষ্ণায়নের কারণে ঘটেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪৪৬ জন মৃত্যুবরণ এবং ৬৬৬৯ জন অদৃশ্য হয়েছে নেপাল ও চীনের বন্যা দুর্যোগে। নেপালে ১৪০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১০৫ জনের শনাক্তকরণ হয়েছে। চীনে ৪৩ জনের মৃত্যু এবং ৫১৯ জনের খোঁজ নেই।
- 📌 বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এই দুর্যোগের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নেপালের হিমালয় অঞ্চলে ২০২৫ সালের শেষের দিকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উচ্চ তাপমাত্রা (৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি) হিমবাহের অবনতিকে ত্বরান্বিত করেছে।
- 📌 বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই অঞ্চলে ‘অপরিবর্তনীয় পরিবর্তন’ ঘটছে। নেদারল্যান্ডসের ইউট্রেচ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পানিবিদ ওয়াল্টার ইমারজেল বলেছেন, হিমবাহের পতন এবং স্থায়ী বরফের অবনতি পর্বতের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
- 📌 নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্রা শাহ জাতিসংঘের সাধারণ সভায় এই বিষয়ে আলোচনা করবেন। নেপালের সরকার অনুমান করেছে, এই দুর্যোগের পুনরুদ্ধারের খরচ হবে ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার।
- 📌 ২০১৫ সালের ৭.৮ মাত্রার ভূকম্পন এই অঞ্চলের পর্বতের স্থিতিশীলতাকে আরও দুর্বল করেছে, যদিও এর সঠিক ভূমিকা এখনও স্পষ্ট নয়।
📰 বিস্তারিত
২৬ আগস্ট, নেপালের লাঙ্গটাং লিরুং পর্বতের একটি বিশাল অংশ পতিত হয়ে গিয়ে নেপাল ও চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা সৃষ্টি করে। এই দুর্যোগে পানি, বরফ এবং ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই দুর্যোগের মূল কারণ ছিল দীর্ঘমেয়াদী উষ্ণায়ন এবং হিমবাহের অবনতি।
বিশ্ব আবহাওয়ার সংস্থা (ডব্লিউডাব্লিউএ) এর গবেষণায় বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে ‘অপরিবর্তনীয় পরিবর্তন’ ঘটছে। ইউট্রেচ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পানিবিদ ওয়াল্টার ইমারজেল বলেছেন, “অনবরত উষ্ণায়ন হিমালয় অঞ্চলের শীতল সীমারেখা উঁচুতে নিয়ে গেছে, যা বরফ এবং স্থায়ী বরফকে উচ্চতর এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য গলনশীল করে তুলেছে। এটি পর্বতের ঢালকে দুর্বল করেছে।”
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্রা শাহ এই বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় আলোচনা করবেন। তিনি বলেছেন, এই দুর্যোগের পুনরুদ্ধারের খরচ হবে ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার। বিজ্ঞানী ফ্রাইডেরিকে অটো, লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের আবহাওয়াবিদ্যা বিশেষজ্ঞ, বলেছেন, “বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এই দুর্যোগের মূল কারণ, তাই এটি ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষতির বিষয়ে আলোচনার বিষয় হতে হবে।”
নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যা দুর্যোগে ৬১৫০ জনেরও খোঁজ নেই। এই দুর্যোগের ফলে নেপালের ৩০ মিলিয়ন জনসংখ্যার অধিকাংশের জীবন ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
"এটি একটি ‘সংকটের সমষ্টি’ যা দীর্ঘমেয়াদী উষ্ণায়নের কারণে ঘটেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল (লাঙ্গটাং লিরুং পর্বত), চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াল্টার ইমারজেল (ইউট্রেচ্ট বিশ্ববিদ্যালয়), ফ্রাইডেরিকে অটো (ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন), প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্রা শাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৪৬ জন মৃত্যু, ৬৬৬৯ জন অদৃশ্য, ৪.৭৮ বিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার খরচ, ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!