📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের ৯ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ আফগানিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশে এই ঝুঁকি সর্বোচ্চ। জলবায়ু তহবিলের অভাবে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাধা পড়ছে
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৯ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) শুক্রবার এই তথ্য প্রকাশ করে সতর্কবার্তা জারি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশসমূহে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশের অধিক মানুষের অবস্থা বিপদগ্রস্ত। বাংলাদেশসহ আফগানিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই ঝুঁকির শিকার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৯ কোটি ছাড়িয়ে গেছে
- 📌 বাংলাদেশসহ আফগানিস্তানসহ ৭৫% বাস্তুচ্যুত মানুষের বসবাস এই ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে
- 📌 ২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার শরণার্থীশিবিরে ১০০-২০০ দিনের বেশি তীব্র তাপমাত্রা বিরাজ করবে
- 📌 জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ১০% পৌঁছায় সংঘাত ও সংকটে থাকা দেশগুলোতে
- 📌 পূর্ব আফ্রিকায় ৩০ লাখ মানুষ বন্যায় বাস্তুচ্যুত হতে পারে
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত কপ৩১ সম্মেলনের পূর্বে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট খরা, বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে থাকা ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অর্থায়নের প্রয়োজন।
ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (কার্যক্রম) আন্তন লেইস গার্সিয়া বলেছেন, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার এলাকাগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেছেন, যেসব জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন তাদের কাছে জলবায়ু তহবিল পৌঁছানো জরুরি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমন দেশে ফিরেছেন, যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সিরিয়ায় প্রায় ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ বাড়ি ফিরেছেন, কিন্তু সেখানে পানির সংকট ও বৃষ্টির অনিয়মিততা তাদের অবস্থাকে আরও বিপদগ্রস্ত করেছে।
গত মে মাসে ইউফ্রেটিস নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যায় বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়াও, ২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রতি তিনটি শরণার্থীশিবিরের একটিতে বছরে অন্তত ১০০ দিন বিপজ্জনক তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। ইথিওপিয়ার হেলাওয়েইনসহ বেশ কয়েকটি শরণার্থীশিবিরে বছরে ২০০ দিনের বেশি সময় তীব্র গরম থাকতে পারে, যা হিটস্ট্রোক ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।
"সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার এলাকাগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যেসব জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, তাদের কাছে জলবায়ু তহবিল পৌঁছানো জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, সিরিয়া, সাব-সাহারান আফ্রিকা, পূর্ব আফ্রিকা (সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা), ইথিওপিয়া (হেলাওয়েইন শরণার্থীশিবির)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আন্তন লেইস গার্সিয়া (ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ কোটি (বাস্তুচ্যুত মানুষ), ৪০ লাখ (সিরিয়ায় ফিরে আসা মানুষ), ১০০ দিন (বিপজ্জনক তাপমাত্রা), ২০০ দিন (তীব্র গরম), ৩০ লাখ (পূর্ব আফ্রিকায় বাস্তুচ্যুত হতে পারে), ১০% (জলবায়ু অর্থায়ন সংঘাতপ্রবণ দেশে পৌঁছায়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!