📌 জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী ৯ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। আফগানিস্তান ও বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলিতে এই সংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ বসবাস করছেন। জলবায়ু তহবিলের অভাব ও অভিযোজন ক্ষমতার অভাবে শরণার্থীরা নিজ দেশে ফিরে আসার পথে বাধা পাচ্ছেন
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি মানুষ জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। এই সংখ্যার মধ্যে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৯ কোটি; আফগানিস্তান ও বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর ৭৫% এরও বেশি এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত
- 📌 ইউএনএইচসিআর সতর্ক করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শরণার্থীরা নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ফিরে আসার পথে বাধা পাচ্ছেন — ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের ৬৬% এরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ফিরেছেন
- 📌 সিরিয়ায় ৪০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ বাড়ি ফিরেছেন, কিন্তু জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে পানি সংকট ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে তাদের অবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে
- 📌 ২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার শরণার্থীশিবিরে বছরে ১০০ দিনের বেশি বিপজ্জনক তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে — ইথিওপিয়ার হেলাওয়েইন শরণার্থীশিবিরে বছরে ২০০ দিনের বেশি তীব্র গরম থাকতে পারে
- 📌 ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, শরণার্থীদের শীতল পরিবেশ, পানি ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি পাওয়ার সুযোগের অভাবের কারণে প্রচণ্ড গরম থেকে নিজেদের রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে
- 📌 পূর্ব আফ্রিকার সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় ভয়াবহ বন্যায় ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে — এই অঞ্চলে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হলে ঝুঁকি আরও বাড়বে
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেওয়া অর্থের মাত্র ১০% পৌঁছায় সংঘাত ও সংকটে থাকা দেশগুলিতে — উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বছরে ৩০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন, কিন্তু ধনী দেশগুলো অর্থ জোগানের প্রতিশ্রুতি পূরণে পিছিয়ে রয়েছে
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর আগে ইউএনএইচসিআর তুরস্কের আনতালিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে সম্পর্কের বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরও অর্থায়নের প্রয়োজন। ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (কার্যক্রম) আন্তন লেইস গার্সিয়া বলেছেন, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার এলাকাগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেছেন, যেসব জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন তাদের কাছে জলবায়ু তহবিল পৌঁছানো জরুরি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, সিরিয়ায় ৪০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ বাড়ি ফিরেছেন, কিন্তু সেখানে পানির সংকট বাড়ছে এবং বৃষ্টি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও, গত মে মাসে ইউফ্রেটিস নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যায় বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রতি তিনটি শরণার্থীশিবিরের একটিতে বছরে অন্তত ১০০ দিন বিপজ্জনক তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। বিশেষ করে ইথিওপিয়ার হেলাওয়েইনসহ কয়েকটি শরণার্থীশিবিরে বছরে ২০০ দিনের বেশি সময় তীব্র গরম থাকতে পারে। এতে হিটস্ট্রোক ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, শরণার্থীদের অনেকেরই শীতল পরিবেশ, পানি ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ কম। ফলে প্রচণ্ড গরম থেকে নিজেদের রক্ষা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
"সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার এলাকাগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যেসব জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, তাদের কাছে জলবায়ু তহবিল পৌঁছানো জরুরি।"
— আন্তন লেইস গার্সিয়া, ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (কার্যক্রম)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, সিরিয়া, সাব-সাহারান আফ্রিকা (ইথিওপিয়া, হেলাওয়েইন শরণার্থীশিবির), পূর্ব আফ্রিকা (সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা), তুরস্ক (আনতালিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আন্তন লেইস গার্সিয়া (ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ কোটি (বাস্তুচ্যুত মানুষ), ৬৬% (২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ফিরে যাওয়া শরণার্থী), ৪০ লাখ (সিরিয়ায় বাড়ি ফিরে আসা বাস্তুচ্যুত), ১০০ দিন (বিপজ্জনক তাপমাত্রা), ২০০ দিন (ইথিওপিয়ার হেলাওয়েইন শরণার্থীশিবিরে তীব্র গরম), ৩০ লাখ (পূর্ব আফ্রিকায় বন্যায় বাস্তুচ্যুত হতে পারে), ১০% (জলবায়ু অর্থায়নের অংশ), ৩০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার (উন্নয়নশীল দেশের প্রয়োজনীয় অর্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!