📌 মোনাকোর বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে ধনকুবের ভাদিম ইয়ারমোলিয়েভের ওপর বিস্ফোরণ হামলার পরিকল্পনা করেন ইউক্রেনের নারী আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কা। পরে ইউক্রেনে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হলেও হত্যার পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী এখনও অজানা
ইউরোপের ধনী দেশ মোনাকোর একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে গত ২৯ জুন বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার শিকার হন ইউক্রেনের অন্যতম ধনকুবের ভাদিম ইয়ারমোলিয়েভ। তাঁর সঙ্গী ও ১৩ বছর বয়সী ছেলেও গুরুতর আহত হন। প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে কালো বাকেট হ্যাট পরা একজন পুরুষের নাম প্রকাশ করা হলেও পরবর্তীতে জানা যায়, আসলে এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন ইউক্রেনের ৩৯ বছর বয়সী নারী আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কা। তাঁর হাতে ছিল একটি সাপ আঁকা ট্যাটু।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউক্রেনের ধনকুবের ভাদিম ইয়ারমোলিয়েভের ওপর বিস্ফোরণ হামলা চালান ইউক্রেনীয় নারী আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কা
- 📌 হামলার সময় আনাস্তাসিয়ার হাতে ছিল সাপ আঁকা ট্যাটু, যা তাঁকে শনাক্ত করতে সাহায্য করে
- 📌 হামলার পর পালিয়ে গিয়ে ইউক্রেনে নিজেরই খোঁড়া কবরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার
- 📌 ভাদিম ইয়ারমোলিয়েভ জানান, তাঁর কোনো শত্রু নেই এবং তিনি কোনো সংঘাতে জড়াননি
- 📌 তদন্ত সূত্রে জানা যায়, আনাস্তাসিয়া একজন ভাড়াটে হত্যাকারী হতে পারেন
📰 বিস্তারিত
গত ২৯ জুন মোনাকোর বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার সময় ভাদিম ইয়ারমোলিয়েভ নিজের অ্যাপার্টমেন্টের দরজার সামনে ছিলেন। বিস্ফোরণের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁর সঙ্গী ও ১৩ বছর বয়সী ছেলেও আহত হন। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, বিস্ফোরণের জন্য দায়ী একজন পুরুষ, যিনি কালো বাকেট হ্যাট পরেছিলেন। তবে তিন দিন পর জানা যায়, আসলে এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন ইউক্রেনের নারী আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কা। তাঁর বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। এমনকি ভাদিমের সঙ্গে তাঁর আগে থেকে কোনো সম্পর্কও ছিল না।
তদন্তকারীরা জানান, আনাস্তাসিয়া খুব সতর্কতার সঙ্গে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি কয়েকটি দেশের সীমান্ত পেরিয়ে ইউক্রেনে পালিয়ে আসেন। মোনাকোয় বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে তিনি জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছে হফহেইমে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছিলেন। তাঁর প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছিল। দ্বিতীয় স্বামীর থেকেও আলাদা থাকতেন তিনি। তাঁর সঙ্গী ছিল তাঁর সাত বছর বয়সী একটি ছেলে। ধারণা করা হয়, আনাস্তাসিয়া অর্থকষ্টে ভুগছিলেন। আদালতের নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২২ সালে জার্মানিতে পাড়ি জমানোর সময় তিনি দ্বিতীয় স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণ না দেওয়ায় মামলা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি আনাস্তাসিয়ার চেয়ে ৩০ বছরের বড় ছিলেন।
ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের ব্যবসায়ী ভাদিমের ওপর আনাস্তাসিয়া নজর রাখতে শুরু করেন বলে জানিয়েছে মোনাকো কর্তৃপক্ষ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কৌঁসুলিরা জানান, গত ২৬ জুন ছিল আনাস্তাসিয়ার ৩৯তম জন্মদিন। ওই দিন থেকে ২৯ জুনের মধ্যে কয়েকবার ভাদিমের বাসার সামনে গিয়েছিলেন এই নারী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন। তাঁর কাঁধ পর্যন্ত লম্বা কালো চুল ছিল বাকেট হ্যাটে ঢাকা। পরনে ছিল ঢিলেঢালা হুডি ও প্যান্ট। তবে একবার তিনি স্বাভাবিক পোশাকে ছিলেন। তখন তাঁর মুখ ও হাতে থাকা ট্যাটু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। মোনাকোর তদন্তকারীরা জানান, এই ট্যাটু দেখেই আনাস্তাসিয়াকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
‘আমার কখনো কোনো শত্রু ছিল না। আমি ঝগড়াঝাঁটি বা সংঘাতে জড়ানোর মানুষ নই। সব সময় বড় বিরোধ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। কেন আমাকে টার্গেট করা হলো, সেটা বুঝতে পারছি না।’ — ভাদিম ইয়ারমোলিয়েভ, ইউক্রেনীয় ধনকুবের
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আনাস্তাসিয়া একজন ভাড়াটে হত্যাকারী হতে পারেন। অর্থাৎ তিনি শুধু অর্থের বিনিময়ে কাজটি করেছেন। তবে মূল পরিকল্পনাকারী কে, সেই বিষয়ে তারা কোনো ধারণা দিতে চাননি। আনাস্তাসিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পাশে একটি জঙ্গলে সদ্য খোঁড়া অগভীর এক কবরে পুঁতে রাখা অবস্থায়। তাঁর শেষ দিনগুলোর গতিবিধি খতিয়ে দেখেছে সিএনএন। সংবাদমাধ্যমটি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁর হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তির সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। ভাদিম নিজেও হাসপাতাল থেকে ফিরে সিএনএনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোনাকো, ইউক্রেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কা, ভাদিম ইয়ারমোলিয়েভ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ বছর, ৩৯ বছর, ৩০ বছর, ২৬ জুন, ২৯ জুন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!