📌 যুক্তরাজ্যের এমপি ক্লাইভ লুইস দাবি করেছেন, ইসরাইলের বসতি স্থাপনকারীদের পাশাপাশি পুরো রাষ্ট্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি না করলে ফিলিস্তিনি নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি ইসরাইলি বাহিনীর প্রতিনিধি দলকে আটকিয়ে রেখে ফেরত পাঠানোর ঘটনাকে ফিলিস্তিনি দৈনন্দিন বাস্তবতার তুলনায় নগণ্য বলে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের নরিচ সাউথের লেবার পার্টির এমপি ক্লাইভ লুইস একটি মতামত নিবন্ধে দাবি করেছেন, ইসরাইলের বিতর্কিত বসতি স্থাপনকারীদের পাশাপাশি পুরো ইসরাইল রাষ্ট্রের ওপরও ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। তিনি বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনী একটি ব্রিটিশ প্রতিনিধি দলকে পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে না দিয়ে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রেখে ফেরত পাঠিয়েছে। এই দলের উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা সহিংসতা ও নিপীড়নের বাস্তব চিত্র তদন্ত করা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাজ্যের এমপি ক্লাইভ লুইস দাবি করেছেন, ইসরাইলের বসতি স্থাপনকারীদের পাশাপাশি পুরো রাষ্ট্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত, কারণ তাদের পেছনে ইসরাইল সরকারের সমর্থন রয়েছে
- 📌 ইসরাইলি বাহিনী ব্রিটিশ এমপি প্রতিনিধি দলকে পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে না দিয়ে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রেখে ফেরত পাঠিয়েছে
- 📌 গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে ইসরাইলি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্লাইভ লুইস
- 📌 ব্রিটিশ সরকার ইসরাইলে অস্ত্র বিক্রি বিধিনিষেধের ফাঁকফোকর বন্ধ করে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি স্থগিতের দাবি করেছেন তিনি
- 📌 ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ গাজার মতোই পশ্চিম তীরেও সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
ক্লাইভ লুইসের মতে, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দলকে পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে না দিয়ে আটক রাখা ইসরাইলি বাহিনীর অসৌজন্যমূলক আচরণ। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ঘটনা ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের চরম বাস্তবতার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। গাজায় চলমান নৃশংসতা ও মানবিক বিপর্যয়ের পর পশ্চিম তীরেও ধীরগতির জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে, যা ইসরাইলি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ।
লুইস উল্লেখ করেছেন, ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ গাজার মতোই পশ্চিম তীরেও সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এর পরপরই ফিলিস্তিনিদের প্রধান জীবিকা হিসেবে পরিচিত জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে অমানবিক আক্রমণের ঘটনাগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগী হয় এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দল। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিশ্ব যেন ইসরাইলের এসব অপরাধের সাক্ষী হতে না পারে, সেজন্য তারা প্রতিনিধি দল এবং সাংবাদিকদের নিয়মিত বাধা দিচ্ছে।
গত দেড় বছরে যুক্তরাজ্যের দুটি এমপি প্রতিনিধি দলকে ফেরত পাঠানো ছাড়াও, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গাজা সংঘাতে শতাধিক ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য সম্প্রতি পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা ভেবেছে, কিন্তু ক্লাইভ লুইস সতর্ক করেছেন, শুধু কিছু নির্দিষ্ট সেটলারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই যথেষ্ট নয়। তিনি দাবি করেছেন, অবৈধ বসতিগুলোর অর্থনীতি সম্পূর্ণ অচল করে দিতে ব্যাংকিং, বিমা ও নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।
লুইস আরও উল্লেখ করেছেন, ব্রিটিশ সরকার ইসরাইলে অস্ত্র বিক্রিতে কিছু বিধিনিষেধ আনলেও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টস সরবরাহ এখনও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তিনি দাবি করেছেন, এই আইনি ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি স্থগিতের দাবি জানানো উচিত। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ইসরাইলের এই অবৈধ দখলদারিত্ব ও বর্ণবাদী নীতি বন্ধে যুক্তরাজ্যকে দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
"বিশ্ব যেন ইসরাইলের এসব অপরাধের সাক্ষী হতে না পারে, সেজন্য তারা প্রতিনিধি দল এবং সাংবাদিকদের নিয়মিত বাধা দিচ্ছে। গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে ত্রাণ সরবরাহে বাধা সৃষ্টিকারী ইসরাইলি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছেন ক্লাইভ লুইস।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য (নরিচ সাউথ), পশ্চিম তীর, গাজা, ইসরাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্লাইভ লুইস (যুক্তরাজ্যের এমপি), বেজালেল স্মোটরিচ (ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ (এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!