📌 যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পবাদের ব্যর্থতা প্রকাশ পেলো। শ্রেণি-বিরোধের জোট ভেঙে পড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মজুরির দাবি জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোতে বিনিয়োগের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে শ্রেণি-বিরোধের জোটের পতন ঘটলো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর গড়ে তোলা শ্রেণি-বিরোধের জোট মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যর্থতা স্বীকার করলো। ট্রাম্পবাদের মূল কৌশল ছিল শ্রমিক ও ধনীদের একত্রিত করা, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মজুরির দাবি এখন জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ট্রাম্পবাদের মূল কৌশল ছিল শ্রমিক ও ধনীদের একত্রিত করা, কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের জোট ভেঙে পড়লো।
- 📌 নিউইয়র্কের গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী জোহরান মামদানি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিকে নির্বাচনী কর্মসূচিতে পরিণত করে জয় পেয়েছিলেন।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী ৪০০টি পরিবার দেশের নিচের অর্ধেক মানুষের তুলনায় কম হারে কর দেয়।
- 📌 ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির ৯২ শতাংশ এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোতে বিনিয়োগ থেকে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০০ কোম্পানির মধ্যে মাত্র সাতটি বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ভালো করছে, বাকি ৪৯৩টি স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর রাজনৈতিক-সামাজিক আবহের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ট্রাম্পবাদের মূল কৌশল ছিল শ্রমিক ও ধনীদের একত্রিত করা। প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেররা ট্রাম্পকে শ্রমজীবী আমেরিকানদের সঙ্গে এক মঞ্চে আনার আশায় ছিলেন। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল দেখিয়েছে, সেই জোট ভেঙে পড়েছে। ইলন মাস্কের মতো অতিধনী দাতারা রিপাবলিকান প্রার্থীদের পেছনে বিপুল অর্থ ঢেলেছেন, কিন্তু শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের বড় অংশ তাদের পাশে থাকেনি।
ট্রাম্পবাদের আরেকটি কৌশল ছিল শ্রমিকের বেতন বাড়ানোর প্রশ্ন আড়াল করে সামনে আনা অভিবাসী, বর্ণ ও সংস্কৃতির বিতর্ক। যেমন, মজুরি বাড়ানোর দাবি না তুলে বলা হয়েছিল, হাইতির অভিবাসীরা কুকুর খেয়ে ফেলছে! কিন্তু নির্বাচনের ফল দেখিয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মজুরির দাবি এখন জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্কের গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী জোহরান মামদানি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিকে নির্বাচনী কর্মসূচিতে পরিণত করে জয় পেয়েছিলেন।
অর্থনীতিবিদ ফ্রেড ম্যাগডফ ও জন বেলামি ফস্টারের বই ‘গ্র্যান্ড থেফট ক্যাপিটাল’-এ দেখানো হয়েছে, ১৯৬০-এর দশকে জাতীয় আয়ের ৩০ শতাংশ পেতেন সাধারণ শ্রমিকেরা। এখন তা কমে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ জেসন ফারম্যানের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির ৯২ শতাংশ এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোতে বিনিয়োগ থেকে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির সুফল পাচ্ছেন গুটিকয় ব্যক্তি ও বিনিয়োগ তহবিল, যাদের অধিকাংশের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলোর হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০০ কোম্পানির মধ্যে মাত্র সাতটি বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ভালো করছে। বাকি ৪৯৩টি আয় ও মুনাফা প্রায় স্থবির। অ্যাপোলোর প্রধান অর্থনীতিবিদ টর্স্টেন স্লক লিখেছেন, বিপুল বিনিয়োগ ও প্রচার সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করপোরেট আমেরিকার জন্য এখনো কোনো আর্থিক সুফল আনতে পারেনি।
"গাড়িনির্ভর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের রেকর্ড দাম, ডিম থেকে মাংস পর্যন্ত পণ্যের দামের ওঠানামা এবং বাড়িভাড়া মেটানোর সংগ্রাম মানুষের জীবন কঠিন করে তুলেছে। এসব সমস্যাকে শুধু অর্থনৈতিক বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (নিউইয়র্ক, সিলিকন ভ্যালি, ওয়াল স্ট্রিট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জোহরান মামদানি, ফ্রেড ম্যাগডফ, জন বেলামি ফস্টার, জেসন ফারম্যান, টর্স্টেন স্লক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০০টি পরিবার, ৩০ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ৯২ শতাংশ, ৫০০টি কোম্পানি, ৪৯৩টি কোম্পানি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!