📌 তোরাহ হলো ইহুদি সম্প্রদায়ের তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরনো জীবনধারা ও আইনের মূল ভিত্তি। এই পাঁচটি গ্রন্থের সমন্বয়ে গঠিত বইটিতে মানবজাতির উৎস, দশ আদেশ ও ঈশ্বরের নির্দেশনা বর্ণিত হয়েছে। আজও হাতে লেখা এই পবিত্র গ্রন্থের প্রতিটি অক্ষরের সঠিকতা নিশ্চিত করতে ১৮ মাস সময় লাগে।
তোরাহ হলো মানব চিন্তা ও বিশ্বাসকে গভীরভাবে প্রভাবিতকারী ১০০টি কালজয়ী বইয়ের অন্যতম। এই পবিত্র গ্রন্থটি ইহুদি সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন জীবনের মূল নির্দেশিকা হিসেবে তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুসৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে এটি ‘তাওরাত’ নামে পরিচিত। তোরাহের ভিত্তিতেই ইহুদি আইন ও জীবনধারা গড়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তোরাহ হলো পাঁচটি গ্রন্থের সমন্বয়ে গঠিত: ‘বেরেশিত’, ‘শেমোত’, ‘ভায়ইক্রা’, ‘বামিদবার’ ও ‘দেবারিম’ — যা বাইবেলের প্রথম পাঁচটি বই (‘জেনেসিস’, ‘এক্সোডাস’, ‘লেভিটিকাস’, ‘নাম্বারস’ ও ‘ডিউটারোনমি’) এর সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ
- 📌 এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে ইসরায়েল গোত্রের আদি নেতা ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের কাহিনি, মুসার নেতৃত্বে মিসর ত্যাগের গল্প, সিনাই পর্বতে ‘দশ আদেশ’ নাজিল হওয়ার ঘটনা এবং ঈশ্বর-প্রতিশ্রুত কেনানে প্রবেশের পূর্বে ইসরায়েলিদের অবস্থা
- 📌 খ্রিষ্টপূর্ব ১৩১২ সালে মুসার ওপর ‘তোরাহ’ নাজিল হয় এবং পরবর্তী ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনি তা সম্পূর্ণ করেন। আধুনিক গবেষণায় জানা যায়, এই পাঁচটি গ্রন্থ প্রকৃতপক্ষে খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০ সালের দিকে একত্রিত হয়
- 📌 ‘তোরাহ’র ৩ লাখ ৪ হাজার ৮০৫টি হিব্রু অক্ষর হাতে লেখা হয় এবং প্রতিটি অক্ষরের সঠিকতা নিশ্চিত করতে প্রায় ১৮ মাস সময় লাগে। এই প্রক্রিয়াটি ইহুদি ধর্মের একটি কঠোর ঐতিহ্য
- 📌 ইসলামও ‘তোরাহ’র ঐতিহাসিক অস্তিত্ব স্বীকার করে এবং পবিত্র কোরআনে এর উল্লেখ রয়েছে। তবে মুসলিমদের বিশ্বাস, এটি মানুষের অবহেলায় বিকৃত হয়েছে
- 📌 ইহুদি ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, ‘তোরাহ’ পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার আগেই বিদ্যমান ছিল এবং ঈশ্বর সব জাতির জন্যই এটি নাজিল করেছিলেন, কিন্তু কেবল ইসরায়েল জাতিই তা গ্রহণ করেছিল
📰 বিস্তারিত
‘তোরাহ’ শব্দের প্রকৃত অর্থ ‘নির্দেশনা’ বা ‘শিক্ষা’ — না ‘আইন’। ইহুদিরা বিশ্বাস করে, এই নির্দেশনা ঈশ্বরের সরাসরি শিক্ষা। কট্টর ইহুদিদের কাছে এটি ঈশ্বরের কঠোর আইন হলেও উদারপন্থী ইহুদিরা এটিকে একটি নির্দেশনা হিসেবে দেখেন। যেমন, অনেক খ্রিষ্টান ‘বাইবেল’র প্রতিটি কথাকে আক্ষরিকভাবে মেনে নেন না।
‘তোরাহ’র পাঁচটি গ্রন্থে মানবজাতির উৎসস্থল ইডেন উদ্যান থেকে শুরু করে মুসার মৃত্যু পর্যন্ত বিস্তৃত ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে। এতে ইসরায়েলিদের মিসর ত্যাগের কাহিনি, সিনাই পর্বতে ঈশ্বর-প্রতিশ্রুত ‘দশ আদেশ’ নাজিল হওয়ার ঘটনা এবং ঈশ্বর-প্রতিশ্রুত কেনানে প্রবেশের পূর্বে ইসরায়েলিদের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে।
আজও ‘তোরাহ’ চামড়ার স্ক্রলে হাতে লেখা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ৩ লাখ ৪ হাজার ৮০৫টি হিব্রু অক্ষরের প্রতিটি সঠিকভাবে লেখা হয়। এই কঠোর প্রক্রিয়াটি গভীর বিশ্বাস ও ক্যালিগ্রাফিক শিল্পের অনন্য নিদর্শন। ঐতিহ্য অনুসারে, প্রত্যেক ইহুদির কাছে এক কপি ‘তোরাহ’ থাকা উচিত। কমপক্ষে দুই হাজার বছর ধরে ইহুদিরা নির্ধারিত বার্ষিক পাঠ্যসূচি মেনে ‘তোরাহ’ বারবার শ্রবণ বা পাঠ করেন।
‘তোরাহ’ কেবল ইহুদি ধর্মগ্রন্থই নয়, এটি প্রাচীন ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হিন্দুধর্ম ও জরাথুস্ত্রিয়ানের মতোই, ‘তোরাহ’ হলো দুনিয়ার অন্যতম প্রাচীন বিশ্বাসব্যবস্থা।
"‘তোরাহ’র মূলকথা—‘প্রতিবেশীদের তেমনটাই ভালোবাসো, যেমন ভালোবাসো নিজেকে’"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল (সিনাই পর্বত), মিসর, ইডেন উদ্যান
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মুসা, ইব্রাহিম, ইসহাক, ইয়াকুব, ঈশ্বর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫টি গ্রন্থ, ৩০-৪০ বছর, ৭০০ বছর, ৩ লাখ ৪ হাজার ৮০৫টি অক্ষর, ১৮ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!