📌 স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন প্রায় সাত হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। মরক্কোতে ফেরত না পাঠিয়ে স্পেনে আশ্রয় দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তাঁরা। স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বাড়ছে, ছড়াচ্ছে সংক্রামক রোগ
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন প্রায় সাত হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। দুই সপ্তাহ আগে ব্যাপকভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা এসব মানুষ মরক্কোতে ফেরত না পাঠিয়ে স্পেনে আশ্রয় দেওয়ার দাবিতে সেউতার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অধিকাংশই মরক্কোর নাগরিক হলেও তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি সহ অন্যান্য দেশের নাগরিকও রয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্পেনের সেউতায় অনধিকার প্রবেশ করেছেন প্রায় ৭২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী
- 📌 স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এখনো অবস্থান করছেন আনুমানিক ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী
- 📌 শহরের সীমিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম; ছড়াচ্ছে ডায়রিয়া ও খোসপাঁচড়ার মতো সংক্রামক রোগ
- 📌 স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানান, অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের স্পেনে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না
- 📌 অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জানান, তাঁরা সমুদ্রের পাশে ঘুমাচ্ছেন, মারাত্মক ঠান্ডা ও দুর্গন্ধে জীবন অতিষ্ঠ
📰 বিস্তারিত
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। দুই বছর ধরে ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, মিসর, লিবিয়া ও আলজেরিয়া পাড়ি দিয়ে অবশেষে তিনি পৌঁছেছেন স্পেনের সেউতায়। এখন তিনি আশ্রয় চাইছেন। সেউতার এক সৈকতে শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশীর সঙ্গে তিনিও মরক্কোতে ফেরত না পাঠিয়ে স্পেনে আশ্রয় দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।
দুই সপ্তাহ আগে ব্যাপকভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা অভিবাসীদের অধিকাংশই স্বেচ্ছায় ফিরে গেলেও রয়ে গেছেন আনুমানিক ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। শহরের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় তাঁরা এল ত্রাম্পোলিন সৈকত বা শহরের উপকণ্ঠে মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন। মরক্কোর তেতুয়ান থেকে আসা আইয়ুব এলআরুদ বলেন, ‘আমরা সমুদ্রের পাশে ঘুমাচ্ছি। এখানে মারাত্মক ঠান্ডা আর দুর্গন্ধ। আমরা অনেক কষ্টে আছি। পুলিশও শহরে দিকে যেতে বাধা দিচ্ছে।’
বিক্ষোভকারীরা স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার তুলে ধরেন। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আমরা মরক্কোয় ফিরে যেতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’। তাঁরা ‘আমরা ক্লান্ত’ ও ‘আমাদের একটি সমাধান দরকার’ এমন স্লোগানও দেন। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে কেউ পাথুরে তীরে কাপড় ধুচ্ছিলেন, আবার কেউ বাঁশের তৈরি ছিপ দিয়ে মাছ ধরছিলেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানান, অনিয়মিতভাবে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের সেখানে থাকার, স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার বা বৈধ মর্যাদা পাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।
এদিকে সেউতার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিকে রোভিরাল্তা ওন্দা সেরো জানান, শহরের সীমিতসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ধীরগতির প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ডায়রিয়া ও খোসপাঁচড়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে।
অভিবাসীদের মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মাঝারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে তা কম বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া। তিনি বলেন, অভিবাসনের সঙ্গে রোগব্যাধিকে যুক্ত করা অন্যায্য ও জেনোফোবিক।
‘আমরা সমুদ্রের পাশে ঘুমাচ্ছি। এখানে মারাত্মক ঠান্ডা আর দুর্গন্ধ। আমরা অনেক কষ্টে আছি। পুলিশও শহরে দিকে যেতে বাধা দিচ্ছে।’ — আইয়ুব এলআরুদ, অভিবাসনপ্রত্যাশী
মরক্কোর ফেজ শহরের ৩৯ বছর বয়সী অটোমেশন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ওয়ানজার বলেন, মাসে গড়ে ৩ হাজার দিরহাম (৩২৪ ডলার) আয় করে তাঁর পক্ষে বাড়ি কেনা বা পরিবার শুরু করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘স্পেনের মাটিতে পৌঁছানোর পর আমার মনে হয়েছে, আমি যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছি। ফিরে যাওয়ার চেয়ে আমি বরং মরতে চাই।’
সংঘাতকবলিত উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ৩০ বছর বয়সী ইমানুয়েল পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের জন্য আরও ভালো জীবনের লড়াই করছি।’ দক্ষিণ সেনেগালের উসমান জানান, তাঁর যৌন পরিচয়ের কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করছেন। তবে তিনি যেসব স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, সেগুলোর কাছ থেকে এখনো কোনো উত্তর পাননি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: স্পেনের সেউতা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, আইয়ুব এলআরুদ, ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ বছর, ৭২ হাজার, ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার, ৩৯ বছর, ৩ হাজার দিরহাম (৩২৪ ডলার), ৩০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!