📌 দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ জোল্লা প্রদেশে অবস্থিত পার্পল আইল্যান্ডে বেগুনি রঙের ঘরবাড়ি, সেতু ও ফুলের মাঠে রূপকথার মতো পরিবেশ গড়ে উঠেছে। বিটিএসের ভক্তদের প্রিয় 'বোরাহে' শব্দের সাথে জড়িত এই দ্বীপে ৪০০টি বেগুনি রঙের ভবন এবং ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঠের সেতু রয়েছে
দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ জোল্লা প্রদেশের সিনান কাউন্টিতে অবস্থিত পার্পল আইল্যান্ড বা বেগুনি দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এই দ্বীপে সমুদ্রের নীল পানির ওপর দিয়ে প্রসারিত বেগুনি রঙের কাঠের সেতু, বেগুনি রঙের ঘরবাড়ি, টেলিফোন বুথ, সাইনবোর্ড এবং রাস্তার বেঞ্চ — সবকিছুই রূপকথার মতো মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। দ্বীপটি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে কাঠের দীর্ঘ সেতু দিয়ে যুক্ত দুটি ক্ষুদ্র দ্বীপ বানয়োল ও বাকজিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ জোল্লা প্রদেশে অবস্থিত পার্পল আইল্যান্ডে ৪০০টি বেগুনি রঙের ভবনের ছাদ রয়েছে, যা স্থানীয় বেগুনি ফুল, বেলফ্লাওয়ার এবং কোহলরাবির রঙের অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি
- 📌 দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ হলো ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বেগুনি রঙের কাঠের সেতু, যা জোয়ার-ভাটার সময়ে রূপকথার মতো অনুভূতি সৃষ্টি করে
- 📌 ২০২১ সালে জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থা দ্বীপটিকে বিশ্বের সেরা পর্যটন গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করে, যেখানে ৩০ হাজার অ্যাস্টার ফুল ও ২১ হাজার ৫০০ বর্গমিটার ল্যাভেন্ডার রোপণ করা হয়েছে
- 📌 বিটিএসের ভক্তদের প্রিয় 'বোরাহে' শব্দের সাথে জড়িত এই দ্বীপে বিটিএস সদস্য কিম তাইহিয়ুং (ভি) তৈরি করেছিলেন 'আই পার্পল ইউ' শব্দটি, যা দ্বীপের একটি প্রধান আকর্ষণ
- 📌 সিউল থেকে এই দ্বীপে পৌঁছাতে প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় লাগে, এবং বেগুনি রঙের পোশাক পরে যাওয়ার ক্ষেত্রে দ্বীপে প্রবেশের সুযোগ নিখরচায় পাওয়া যায়
📰 বিস্তারিত
পার্পল আইল্যান্ডে পা রাখলে মনে হয় আপনি বাস্তব জগৎ ছেড়ে এক স্বপ্নিল বেগুনি সাগরে ডুব দিয়েছেন। দ্বীপের প্রায় ৪০০টি ভবনের ছাদ রাঙানো হয়েছে হালকা বেগুনি ও লিলাক রঙে। স্থানীয়ভাবে জন্মানো বেগুনি ঘণ্টার মতো দেখতে বেলফ্লাওয়ার এবং বেগুন ও কোহলরাবির রঙের অনুপ্রেরণা নিয়ে এই রঙের পরশ ছড়ানো হয়েছে। বসন্তকালে ল্যাভেন্ডার ফুল এবং শরতে বেগুনি অ্যাস্টার ফুলের মাঠে সমুদ্রের নীলাভ জলরাশি আর উপকূলীয় সবুজ প্রকৃতির মাঝে এই রঙের খেলা রূপ নেয় এক পরাবাস্তব দৃশ্যে।
দ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় কেন্দ্রবিন্দু হলো পার্পল ব্রিজ — নীল সমুদ্রের বুক চিরে চলে যাওয়া প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঠের পায়ে হাঁটার সেতু। জোয়ারের সময় বেগুনি সেতুর নিচ দিয়ে জলরাশি বয়ে যায়, আর ভাটার সময় চারপাশের বিশাল কাদা-চর জেগে ওঠে। সেতুর ওপর হেঁটে যাওয়ার অনুভূতি রূপকথার কথা মনে করিয়ে দেয়। হেঁটে বা বাইকে চড়ে শান্ত হাওয়ায় এই সেতু পার হওয়া যেকোনো ভ্রমণকারীর হৃদয়ে এক অপার্থিব প্রশান্তি জোগায়।
এই দ্বীপের পেছনে লুকিয়ে আছে এক সামাজিক পুনর্জাগরণের গল্প। একসময় বয়োবৃদ্ধ জনসংখ্যা ও লোকসংখ্যা হ্রাসের সংকটে পড়া দ্বীপের বাসিন্দারা ও স্থানীয় সরকার একে আকর্ষণীয় করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু হয় এক ঐতিহাসিক রূপান্তর। ৩০ হাজার অ্যাস্টার ফুল ও ২১ হাজার ৫০০ বর্গমিটারজুড়ে ল্যাভেন্ডার রোপণ করে সাজানো হয় দ্বীপ দুটি। এই অভূতপূর্ব উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থা একে বিশ্বের সেরা পর্যটন গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করে।
"বেগুনি রঙের মোহময় রূপকথা পার্পল আইল্যান্ডে পা রাখা মাত্রই মনে হয় আপনি বাস্তব জগৎ ছেড়ে এক বেগুনি রঙের সাগরে ডুব দিয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিনান কাউন্টি, দক্ষিণ জোল্লা প্রদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কিম তাইহিয়ুং (ভি, বিটিএস সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০০টি বেগুনি ভবন, ১.৫ কিলোমিটার সেতু, ৩০ হাজার অ্যাস্টার ফুল, ২১ হাজার ৫০০ বর্গমিটার ল্যাভেন্ডার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!