📌 নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের ছেলে-বাবা দু’জনেই সার ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা অনিয়মের দাবি জানিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। অন্যদিকে, অন্য একটি ডিলারশিপে গুদামের ধারণক্ষমতা না থাকায় অভিযোগের মুখে পড়েছে কৃষি কর্মকর্তারা
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের ছেলে-বাবা দু’জনেই সার ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অনৈতিক প্রভাবের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে, অন্য একটি সার ডিলারশিপে গুদামের ধারণক্ষমতা না থাকায় অভিযোগের মুখে পড়েছে কৃষি কর্মকর্তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের ছেলে-বাবা দু’জনেই সার ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া উপজেলায়।
- 📌 অভিযোগে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ দাউদের বাবা মো: আব্দুল বাতেনের প্রতিষ্ঠানকে তমরদ্দি ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
- 📌 চরকিং ইউনিয়নে গুদামের ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিক টন না থাকা সত্ত্বেও একটি প্রতিষ্ঠানকে সার ডিলারশিপ দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দা মো: মনির উদ্দিন।
- 📌 অভিযোগকারী মনির উদ্দিনের দাবি, গুদামের মেঝের আয়তন মাত্র ৩২২ বর্গফুট — যেখানে সর্বোচ্চ ১০ মেট্রিক টন সার রাখা সম্ভব।
- 📌 জেলা কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক আশীষ কুমার বলেছেন, বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।
- 📌 অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
📰 বিস্তারিত
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের ছেলে-বাবা দু’জনেই সার ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অনৈতিক প্রভাবের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। জানার পর তিনি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি হাতিয়া পৌরসভা ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে তমরদ্দি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের বাবা মো: আব্দুল বাতেনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজকে সার ডিলারশিপ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: আব্দুল বাতেন বিষয়টি স্বীকার করে জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ তার ছেলে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেছেন, বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তারা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, চরকিং ইউনিয়নে সার ডিলারশিপের অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দা মো: মনির উদ্দিন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, চরকিং ইউনিয়নে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার গুদাম না থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের আকতার হোসেনের প্রতিষ্ঠান ওয়াসিম ট্রেডার্সকে সার ডিলারশিপ দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মনির উদ্দিন বলেছেন, সরকারি সার ডিলার নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারের গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিক টন হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গুদামের দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট — মেঝের আয়তন মাত্র ৩২২ বর্গফুট। এতে সর্বোচ্চ আট থেকে দশ মেট্রিক টন সার রাখা সম্ভব নয়। উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হকের প্রত্যয়নপত্রেও এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
"সার পাচারকারীদের সাথে যোগসাজশ এবং অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার উদ্দেশ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা পছন্দের ব্যক্তিদের নামে ডিলারশিপের সুপারিশ করেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নোয়াখালী জেলা, হাতিয়া উপজেলা, দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ দাউদ, মো: আব্দুল বাতেন, মো: মনির উদ্দিন, আশীষ কুমার, আব্দুল বাছেদ সবুজ, আকতার হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ অক্টোবর, ১১ ইউনিয়ন, ২৫ মেট্রিক টন, ২৩ ফুট, ১৪ ফুট, ৩২২ বর্গফুট, ১০ মেট্রিক টন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!