📌 সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলে জলদস্যুদের তৎপরতা নতুন করে বেড়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, নিরাপত্তার ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর নজরদারি কমে যাওয়ায় জেলেদের জীবিকা বিপন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলায় ১৭ জন নাবিকের মধ্যে পাঁচজন নিহত হন
সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলে জলদস্যুদের নতুন করে জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে। অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর নজরদারিতে পরিবর্তন এই অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরার জীবিকা হারানোর কারণে বিপাকে পড়েছেন। আলজাজিরা ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের তৎপরতা নতুন করে বেড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ বছর বয়সে সমুদ্রে নৌকা নিয়ে মাছ ধরার শুরু করলেও বড় ট্রলারের কারণে মাছ কমে যাওয়ায় জেলেদের জীবিকা বিপন্ন
- 📌 সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে; নিরাপত্তা অভিযান চলছে, কিন্তু জেলেদের সমুদ্রে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে
- 📌 ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল তেলবাহী জাহাজ ‘অনার ২৫’ ছিনতাইয়ে ১৭ জন নাবিকের মধ্যে পাঁচজন নিহত হন, ৪৪ জন মুক্ত করা হয়
- 📌 অর্থনৈতিক সংকট, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়েছে; সোমালিয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে
- 📌 লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা এবং নৌবাহিনীর সম্পদ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ায় সোমালিয়ার উপকূলে নজরদারি কমেছে
📰 বিস্তারিত
পুন্টল্যান্ড উপকূলের ছোট্ট শহর বান্দের বেইলার জেলের আবদিফাতাহ মোহাম্মদ ২০ বছর ধরে মাছ ধরেন। তিনি বলেন, মাত্র ১৫ বছর বয়সে নৌকা নিয়ে সমুদ্রে নামার শুরু করেছিলেন। কিন্তু বড় বড় বিদেশি ট্রলারের কারণে মাছ কমে যাওয়ায় জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। লবস্টার পাওয়াও আগের মতো সহজ নয়। এছাড়াও, জলদস্যুরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের জাহাজ ছিনতাই ঠেকাতে নিরাপত্তা অভিযান চলছে, কিন্তু জেলেদের সমুদ্রে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আলজাজিরা ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের তৎপরতা নতুন করে বেড়েছে। ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর নজরদারিতে পরিবর্তন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৯১ সালে ভেঙে পড়ার পর দেশটির উপকূলীয় জলসীমায় নজরদারি দুর্বল হয়ে যায়। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, বড় ট্রলারগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা পেরে উঠছেন না। জীবিকা হারানোর ক্ষোভ থেকে উপকূলের কিছু মানুষ জলদস্যুতে জড়িয়ে পড়েছেন।
জলদস্যুদের তৎপরতা ঠেকাতে আগস্টের শেষ দিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জেলেদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু এতে জলদস্যুরা জেলে সেজে চলাচল করতে পারে। ফলে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন, তাদেরও সংকটে পড়েন। স্থানীয় জেলে আবদিরিজাক সাঈদের বলেন, জলদস্যুদের কাছে খাবার বা অন্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে। দোকানিদেরও জলদস্যুদের কাছে পণ্য বিক্রি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে মাছ ধরা, ব্যবসা এবং পণ্য সরবরাহ— সব ক্ষেত্রেই অচলাবস্থা তৈরি হয়।
২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল তেলবাহী জাহাজ ‘অনার ২৫’ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৭ জন নাবিকের মধ্যে পাঁচজন নিহত হন। জাহাজের দ্বিতীয় প্রকৌশলী সৈয়দ হুসাইন ইউসুফ এবং নাবিক ইয়াসির খানের বর্ণনা অনুযায়ী, জলদস্যুরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে জাহাজে উঠে আসে। নাবিকদের ব্রিজে আটকে রাখা হয়। প্রথমে জলদস্যুরা ৭০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছিল, পরে দাবির পরিমাণ ১০ লাখ ডলারে নামিয়ে আনা হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পুন্টল্যান্ডের সামুদ্রিক পুলিশ জাহাজটি উদ্ধারে অভিযান চালায়। গোলাগুলির মধ্যে জলদস্যুদের নিজেদের মধ্যেও সংঘর্ষ বাধে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘অনার ২৫’, ‘সিমুল’ এবং ‘ইউরেকা’—জলদস্যুদের দখলে থাকা তিনটি জাহাজ মুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে ৪৪ জন নাবিককে মুক্ত করা হয়।
"জলদস্যুরা জেলে সেজে চলাচল করতে পারে। ফলে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন, তাদেরও সংকটে পড়েন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পুন্টল্যান্ড উপকূল, সোমালিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদিফাতাহ মোহাম্মদ, আবদিরিজাক সাঈদের, সৈয়দ হুসাইন ইউসুফ, ইয়াসির খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বছর (মোহাম্মদের সমুদ্রে কাজের বছর), ১৫ বছর (মাছ ধরার শুরু), ২১ এপ্রিল (জাহাজ ছিনতাই), ১৭ জন (নাবিক), ৭০ লাখ ডলার (মুক্তিপণ), ১০ লাখ ডলার (নামিয়ে আনা), ৪৪ জন (মুক্ত নাবিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!