📌 গাম্বিয়ার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের অসুবিধা, খাদ্য-পানীয়ের অভাবে এবং অবকাঠামোতে দুর্বলতার কারণে প্রতিবাদ করে। সরকার বাস, খাদ্য ও ইন্টারনেটের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবি মেটাতে পারেনি।
গাম্বিয়ার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য প্রতিদিন কঠিন সংগ্রাম করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ লামিন জাল্লো বলেছেন, তার বাসা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফারাবা বান্তা ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য বাসের আসন পেতে প্রতিদিন লড়াই করতে হয়। তিনি আল জাজীরার সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, “কখনো কখনো মনে হয় যেন জীবন-মৃত্যুর লড়াই। কেউ প্রথমে বাসে চড়ে বসতে পেরে যাবে, কেউ দাঁড়িয়ে যেতে হবে, আর কেউ সম্পূর্ণভাবে পড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।”
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪০ কিলোমিটার দূরত্ব পার হয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য প্রতিদিন বাসের আসন লড়াই করে, যার ফলে অনেকেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়
- 📌 ১২ হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের যাতায়াত, খাদ্য, পানীয় ও ইন্টারনেটের অভাবে প্রতিবাদ করে এবং শিক্ষক ও শিক্ষা বিষয়ক পরিচালকের পদত্যাগের দাবি তোলেন
- 📌 ২০টি নতুন বাস সরকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য প্রেরণ করেছে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলছেন, বাসের সংখ্যা যথেষ্ট নয় এবং আসন পাওয়ার লড়াই অব্যাহত
- 📌 ক্যাম্পাসে পানীয় জল ও খাদ্যের অভাবে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা করতে পারছেন না, যার ফলে অনেকেই স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ছেন
- 📌 ইন্টারনেটের অস্থিরতা এবং অবকাঠামোতে দুর্বলতা (অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, ভেঙে পড়া বাতাসের ব্যবস্থা, বিদ্যুতের সংযোগের সমস্যা) শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি করছে
📰 বিস্তারিত
গাম্বিয়ার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের অসুবিধা, খাদ্য-পানীয়ের অভাবে এবং অবকাঠামোতে দুর্বলতার কারণে ২৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যালয়ে প্রতিবাদ করে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারবার্ট রবিনসন এবং শিক্ষা বিষয়ক পরিচালক তাদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের পদত্যাগের দাবি তোলেন। প্রতিবাদের পর সরকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ২০টি নতুন বাস প্রেরণ করেছে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলছেন, বাসের সংখ্যা যথেষ্ট নয় এবং আসন পাওয়ার লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য কেন্দ্র (ক্যাফেটেরিয়া) বন্ধ থাকায় তারা সস্তা খাদ্য পেতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট ইসমাইলা ফাদেরা বলেছেন, তিনি উপাচার্য হারবার্ট রবিনসনের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। রবিনসন বলেছিলেন, “মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে চিন্তা করি, কিন্তু আমাদের প্রশাসনিক নিয়মকানুন ও আইনানুগতা মেনে চলতে হবে। আমি নিজেও একজন শিক্ষার্থী ছিলেন এবং আমাদের অনেকেই এমন সময় পার করেছি। আমি নিজে পানি ও খাবার বহন করতাম। শিক্ষার্থীদেরকে সত্যিকারের অবস্থান জানাতে হবে। ক্যাফেটেরিয়া খোলা হলেও তা শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাকে উন্নত করবে, কিন্তু তা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে খাদ্য কেন্দ্রগুলি শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা রয়েছে, তবে পানীয় জলের জন্য অতিরিক্ত ফিল্টারিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তারা বলেছেন, পানীয় জলের ব্যবস্থা করার জন্য জলের জার ও ডিসপেনসার স্থাপন করা হয়েছে এবং জাতীয় জল ও বিদ্যুৎ কোম্পানি (নাওয়েক)কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগের বিষয়ে তারা বলেছেন, নতুন নির্মিত কৃষি ও আইন বিভাগে সংযোগের কাজ চলছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তারা কোনো নিশ্চয়তা দেননি যে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে কিনা।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেছেন, মেডিকেল ও সহযোগী স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিভাগে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, ভেঙে পড়া বাতাসের ব্যবস্থা, বিদ্যুতের সংযোগের সমস্যা এবং প্রজেক্টর ও স্মার্টবোর্ডের অভাব তাদের পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি করছে।
"কখনো কখনো মনে হয় যেন জীবন-মৃত্যুর লড়াই। কেউ প্রথমে বাসে চড়ে বসতে পেরে যাবে, কেউ দাঁড়িয়ে যেতে হবে, আর কেউ সম্পূর্ণভাবে পড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফারাবা বান্তা ক্যাম্পাস, গাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়; বানজুল, গাম্বিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহাম্মদ লামিন জাল্লো, ইসমাইলা ফাদেরা, হারবার্ট রবিনসন, হাইয়ার এডুকেশন মিনিস্টার প্রফেসর পিয়ের গোমেজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল), ১২,০০০ শিক্ষার্থী, ২০টি বাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!