📌 সিরিয়ার নতুন সরকার এসডিএফের পুরুষ যোদ্ধাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করলেও নারী যোদ্ধাদের (ওয়াইপিজ) সামরিক ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করেছে। নারীরা প্রশাসনিক কাজে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না এবং তাদের স্বাধীনতা ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাসাকা প্রদেশে অবস্থিত একটি সামরিক দুর্গে সূর্যাস্তের আলোয় ছবি তুলছেন কুর্দি নারী যোদ্ধারা। তাদের হাতে কালাশনিকভ রাইফেল (একে-৪৭), কিন্তু লক্ষ্য নয় শত্রু, বরং তাদের নিজস্ব স্বাধীনতার প্রতীক। এই নারী যোদ্ধারা কুর্দি নারী সুরক্ষা ইউনিট (ওয়াইপিজ) নামে পরিচিত, যারা আইএসবিরোধী যুদ্ধে, ইয়াজিদি জনগোষ্ঠীর উদ্ধারে এবং রোজাভা অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তবে সিরিয়ার নতুন সরকার এসডিএফের পুরুষ যোদ্ধাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করলেও তাদের নারীদের সামরিক ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করেছে, যা নারী যোদ্ধাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়ে দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরিয়ার নতুন সরকার এসডিএফের পুরুষ যোদ্ধাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করলেও **ওয়াইপিজের নারী যোদ্ধাদের সামরিক ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করেছে**।
- 📌 সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় **নারীদের সেনাবাহিনীতে যোদ্ধা হিসেবে কাজ করার সুযোগ নেই** বলে ঘোষণা দিয়েছে, তবে প্রশাসনিক কাজে অংশ নিতে পারেন।
- 📌 **২২ বছর বয়সী সিয়া জুডি** বলেছেন, তিনি **১৪ বছর বয়সে** তুরস্কের অভিযানের পর যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন এবং **১৫ বছর বয়সে** আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
- 📌 **২০ বছর বয়সী সুসান বিরহাত** মনে করেন, নারীদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা **সামরিক কঠোরতার লাগাম টেনে দেবে**।
- 📌 **গত ২৭ আগস্ট** ওয়াইপিজে জানিয়েছে, তারা **স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট** হিসেবে স্বীকৃতি চাইছে, কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
📰 বিস্তারিত
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাসাকা প্রদেশে অবস্থিত একটি সামরিক দুর্গে সূর্যাস্তের আলোয় ছবি তুলছেন কুর্দি নারী যোদ্ধারা। তাদের হাতে কালাশনিকভ রাইফেল (একে-৪৭), কিন্তু লক্ষ্য নয় শত্রু, বরং তাদের নিজস্ব স্বাধীনতার প্রতীক। এই নারী যোদ্ধারা কুর্দি নারী সুরক্ষা ইউনিট (ওয়াইপিজ) নামে পরিচিত, যারা আইএসবিরোধী যুদ্ধে, ইয়াজিদি জনগোষ্ঠীর উদ্ধারে এবং রোজাভা অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তবে সিরিয়ার নতুন সরকার এসডিএফের পুরুষ যোদ্ধাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করলেও তাদের নারীদের সামরিক ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করেছে, যা নারী যোদ্ধাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়ে দিয়েছে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নারীদের সেনাবাহিনীতে যোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির ধারণাই প্রত্যাখ্যান করেছে। সিরিয়া সরকারের প্রেসিডেনশিয়াল টিমের প্রতিনিধি **মোস্তফা আবদি** জানান, সিরিয়ার আইন অনুযায়ী নারীরা রাষ্ট্রের যেকোনো উচ্চ পদে কাজ করতে পারলেও সামরিক বাহিনীর যোদ্ধা হিসেবে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। ওয়াইপিজের নারী যোদ্ধাদের শুধু প্রশাসনিক কাজের প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
**২২ বছর বয়সী সিয়া জুডি** হাসাকায় ওয়াইপিজের রোশাম ব্রিগেডের সদস্য। তিনি বলেন, **২০১৪ সালে আইএস দেইর আজ-জোর দখল করার পর** তাঁর পরিবার স্কুল থেকে বেরিয়ে আসতে পারত না। নারীদের একা বাইরে বের হওয়ারও অনুমতি ছিল না। তবে **২০১৮ সালে তুরস্কের অভিযান** তাঁকে যুদ্ধে নামার সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে। তিনি **১৪ বছর বয়সে** যুদ্ধে যোগ দেন এবং **১৫ বছর বয়সে** আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেন। জুডি বলেন, ‘আমি নিজের জীবনের লক্ষ্য নিজেই বেছে নিয়েছিলাম।’
**২০ বছর বয়সী সুসান বিরহাত** ওয়াইপিজের সদস্য। তিনি **১৬ বছর বয়সে** এই সংগঠনে যোগ দেন। তাঁর বাবা পুরুষ বাহিনী পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) এর কর্মকর্তা ছিলেন এবং চার বোনও অস্ত্র হাতে নিয়েছেন। বিরহাত মনে করেন, নারীদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা **সামরিক কঠোরতা ও সহিংসতার লাগাম টেনে ধরতে পারে**। তবে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাহিনী স্বীকৃতি পেলে আমরা পুরো সিরিয়ার নারীদের স্বাধীনতার জন্য কাজ করব।’
"আমি নিজের জীবনের লক্ষ্য নিজেই বেছে নিয়েছিলাম।" — **সিয়া জুডি**, ওয়াইপিজের সদস্য
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাসাকা প্রদেশ, সিরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিয়া জুডি, সুসান বিরহাত, মোস্তফা আবদি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বছর (সিয়া জুডির বয়স), ১৪ বছর (যুদ্ধে যোগদান), ১৫ বছর (আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই), ২০ বছর (সুসান বিরহাতের বয়স), ১৬ বছর (সুসান বিরহাতের যোগদান), ২৭ আগস্ট (বিবৃতি প্রকাশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!