📌 সিউল আদালত উত্তর কোরিয়াকে ২০২০ সালে কেসং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে অবস্থিত দক্ষিণ-উত্তর কোরিয়া যোগাযোগ অফিস ধ্বংসের জন্য ৪৪.৬ বিলিয়ন ওন ক্ষতিপূরণ দিতে আদেশ দিয়েছে। এটি প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার উত্তর কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে
সিউল কেন্দ্রীয় জেলা আদালত উত্তর কোরিয়াকে ২০২০ সালে কেসং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে অবস্থিত দক্ষিণ-উত্তর কোরিয়া যোগাযোগ অফিস ধ্বংসের জন্য ৪৪.৬ বিলিয়ন ওন (প্রায় ৩২.৫ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ জারি করেছে। আদালতের একজন মুখপাত্র এএফপি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন যে, এই আদেশের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া সরকার দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ ঘোষিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৪.৬ বিলিয়ন ওন ক্ষতিপূরণের আদেশ: সিউল আদালত উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারকে এই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে, যা প্রায় ৩২.৫ মিলিয়ন ডলার সমান।
- 📌 ২০২০ সালের কেসং অফিস ধ্বংস: উত্তর কোরিয়া ২০২০ সালের জুন মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার কেসং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে অবস্থিত দক্ষিণ-উত্তর কোরিয়া যোগাযোগ অফিসটি ধ্বংস করে।
- 📌 প্রথমবারের মতো ক্ষতিপূরণ দাবি: এই মামলা দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের প্রথম উদ্যোগ যেখানে তারা উত্তর কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
- 📌 ২০১৮ সালে খোলা অফিস: এই যোগাযোগ অফিসটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খোলা হয়েছিল, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি মুন জে-ইন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সাথে তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন।
- 📌 কোভিড-১৯ কারণে বন্ধ: ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে অফিসের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
সিউল আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া সরকারকে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো সরাসরি ক্ষতিপূরণ প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অফিসটি কেসং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে অবস্থিত ছিল, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলি উত্তর কোরিয়ার কর্মীদের নিয়োগ দিত। তবে ২০২০ সালের জুন মাসে উত্তেজনার পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়া এই অফিসটিকে ধ্বংস করে দেয়। উত্তেজনা শুরু হয়েছিল যখন দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মীরা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বিরোধী পতাকা ও পামফলেট ব্যালুন দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিল। উত্তর কোরিয়া এই অফিসটিকে "ব্যবহারহীন" বলে ঘোষণা করে এবং ধ্বংস করে দেয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার জানিয়েছে যে, তারা উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের মূল্যায়ন করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উত্তর কোরিয়া এই ক্ষতিপূরণ প্রদানের সম্ভাবনা খুব কম। এই মামলাটি ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইউন সুক-ইয়োলের সরকারের সময় দায়ের করা হয়েছিল। ইউন সুক-ইয়োল উত্তর কোরিয়ায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরে ২০২৪ সালে পদত্যাগ করেন।
২০১৮ সালে দক্ষিণ-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি মুন জে-ইন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন তিনটি শীর্ষ সম্মেলন করেন। তবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভিয়েতনামের হানয়ে কিম জং-উন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সম্মেলন ব্যর্থ হয়, যা দক্ষিণ-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের অবনতি ঘটায়।
"দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারকে ৪৪.৬ বিলিয়ন ওন ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ জারি করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিউল কেন্দ্রীয় জেলা আদালত, দক্ষিণ কোরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতের মুখপাত্র, দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি মুন জে-ইন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন, দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি ইউন সুক-ইয়োল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৪.৬ বিলিয়ন ওন (৩২.৫ মিলিয়ন ডলার), ২০২০, ২০১৮, ২০২৩
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!