📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল আল-সাইদের শক্তিময়ী স্ত্রী সারাহ জুকাকু নির্বাচনী লড়াইয়ে তার অপরিসীম সহযোগিতার জন্য আলোচিত। ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের এই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের জীবনসঙ্গী হিসেবে তার ভূমিকা সিনেটর নির্বাচনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল আল-সাইদের পাশে দাঁড়িয়ে তার নির্বাচনী লড়াইয়ে অপরিসীম সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী সারাহ জুকাকু। মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পেছনে সারাহর ভূমিকা অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চিকিৎসক, জীবনসঙ্গী এবং রাজনীতির পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে সারাহ জুকাকু এখন বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়ে উঠেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল আল-সাইদের স্ত্রী সারাহ জুকাকু নির্বাচনী সমাবেশে আবেগপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আলোচিত হন
- 📌 সারাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কেউ তাঁকে বলতে পারে না তিনি কী করবেন’ — স্বামীকে করপোরেশন বা বিশেষ স্বার্থের বশীভূত হতে দেবেন না
- 📌 ৪২ বছর বয়সী আবদুল আল-সাইদ ৩ নভেম্বর মিশিগানের সিনেটর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন
- 📌 সারাহ জুকাকু ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ — অক্সফোর্ড ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন
- 📌 সারাহ ও আবদুলের বিয়ে হয় ২০০৬ সালে — তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে, এমালি (৮ বছর) ও সেরিন (৩ বছর)
📰 বিস্তারিত
মিশিগানের ডেট্রয়েটে আবদুল আল-সাইদের শেষ নির্বাচনী সমাবেশে সারাহ জুকাকু আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তিনি বলেন, ‘আবদুল আমার ও মেয়েদের কাছে ঠিক সেই মানুষ যিনি বিশ্বাসের সাথে কথা বলেন। তিনি যা বিশ্বাস করেন, তা মন থেকেই বলেন এবং সত্যিই তা বিশ্বাস করেন।’ সারাহর ভাষায়, আবদুল অন্য রাজনীতিকদের থেকে আলাদা কারণ তিনি কোনো করপোরেশন বা বিশেষ স্বার্থের বশীভূত হন না। তিনি হাস্যরসাত্মকভাবে যোগ করেন, ‘হয়তো কখনো কখনো আমি ছাড়া!’
সারাহ জুকাকু আবদুলের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি তাঁকে আমার জীবনের ভালোবাসা বলে মনে করি।’ তিনি নির্বাচিত হলে মিশিগানের মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। সারাহর বর্ণনায়, আবদুল একজন অকপট, বিশ্বাসে অবিচল এবং পরিবারকে সময় দেওয়া মানুষ।
৪২ বছর বয়সী আবদুল আল-সাইদ ৩ নভেম্বর মিশিগানের সিনেটর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন। ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি শপথ নেবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
সারাহ জুকাকু ও আবদুল আল-সাইদ উভয়েই মিশিগানে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাদের পরিচয় হয়। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ২০০৬ সালের মে মাসে তারা বিয়ে করেন। সারাহ তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
সারাহ জুকাকু ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সদস্য — তাঁদের আদি নিবাস দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ভাটকাল শহরে। তাঁর বাবা ডা. তাইয়েব জুকাকু একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ এবং দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন ছিলেন আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক। সারাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী থাকাকালীন আবদুলের বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো বেড়ে উঠছি, এবার আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠতে পারব’।
সারাহ জুকাকু পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাগেলোস কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি নেন। বর্তমানে তিনি মিশিগানের অ্যান আরবারে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন এবং ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান হেলথে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন।
"আবদুল আমার ও মেয়েদের কাছে ঠিক সেই মানুষ যিনি বিশ্বাসের সাথে কথা বলেন। তিনি যা বিশ্বাস করেন, তা মন থেকেই বলেন এবং সত্যিই তা বিশ্বাস করেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (মিশিগান, ডেট্রয়েট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল আল-সাইদ, সারাহ জুকাকু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ বছর (আবদুলের বয়স), ৩ নভেম্বর (নির্বাচন তারিখ), ৩ জানুয়ারি (শপথ নেবেন), ১৪০ কিলোমিটার (ভাটকাল থেকে ম্যাঙ্গালুরু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!