📌 ইউক্রেনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ বই। প্রকাশনা খাত মারাত্মক হুমকির মুখে। সংস্কৃতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত। আন্তর্জাতিক সহায়তার দাবি উঠেছে
ইউক্রেনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক সপ্তাহ আগে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের একটি মুদ্রণ কারখানা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বই ও পাঠ্যপুস্তক পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউক্রেনের প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্প এখন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউক্রেনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ বই
- 📌 কিয়েভের একটি মুদ্রণ কারখানায় হামলায় ১৩ লাখ বই তৈরির প্রস্তুতি ছিল, যা ছিল দেশটির মোট স্কুলপাঠ্যের প্রায় ১০ শতাংশ
- 📌 ইউক্রেনের ৩৫টিরও বেশি প্রকাশনা ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 চলতি বছরে ইউক্রেনে উৎপাদিত মোট বইয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে
- 📌 ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রীর দাবি, দেশটির ১ হাজার ৯০০টির বেশি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও ২ হাজারের বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি মুদ্রণ কারখানায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলার সময় কারখানাটিতে নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য ১৩ লাখ বই ছাপানোর প্রস্তুতি চলছিল, যা ছিল দেশটির মোট স্কুলপাঠ্যের প্রায় ১০ শতাংশ। কিন্তু রাতের ওই হামলায় পুরো কারখানাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি পোড়া ইংরেজি ভাষার পাঠ্যবইয়ের পাতায় লেখা ছিল—‘আমার নাম উইলিয়াম, আমি যুক্তরাজ্য থেকে এসেছি। আমার দাদি নটিংহ্যামে থাকেন।’ যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রতীক হয়ে উঠেছে সেই পাতাটি।
কনভি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক পরিচালক ভিক্টোরিয়া হাইদাই বলেন, এসব হামলা ইচ্ছাকৃত বলেই তাঁর বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, একটি জাতির পরিচয় মুছে দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই মুদ্রণ ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। গত দুই মাসে ইউক্রেনের বড় কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ ও গুদামকেন্দ্রও হামলায় ধ্বংস হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ইউক্রেনে উৎপাদিত মোট বইয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে। কিয়েভের পোচাইনা পুরোনো বইয়ের বাজারও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শত শত দোকান ও অসংখ্য পুরোনো বই আগুনে পুড়ে যায়। ২৮ বছর বয়সী বইবিষয়ক ব্লগার লিলিয়া ভেলিকা ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি ভেজা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বই উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘বই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এগুলো হারানো মানে যেন আমাদের হৃদয় হারানো।’
শুধু বই নয়, জাদুঘর, শিল্পকলা প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র স্টুডিও, গ্রন্থাগার ও অপেরা ভবনও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা মঠের ডরমিশন ক্যাথেড্রালের ছাদ ড্রোন হামলায় আগুনে পুড়ে যায়। মেরামতে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ডলার এবং দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ইউনেসকো ১৯৯০ সালে ঐতিহাসিক এই কমপ্লেক্সকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ২০২৩ সালে এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায়ও রাখা হয়।
"সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর হামলাকে যুদ্ধের সামরিক প্রভাব থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। ইউক্রেনের ১ হাজার ৯০০ টির বেশি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও ২ হাজারের বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
ইউক্রেন এখন বই, শিল্পকর্ম ও সাহিত্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে। দেশটির প্রকাশনা খাতকে টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তারও আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে রুশ দূতাবাস বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের জন্য ইউক্রেন সরকারকেই দায়ী করেছে। রাশিয়া দাবি করেছে, কিছু সাংস্কৃতিক স্থাপনা সামরিক স্থাপনা আড়াল করতে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর পর বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ রাশিয়া নিয়মিত অস্বীকার করে আসছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিয়েভ, ইউক্রেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভিক্টোরিয়া হাইদাই (কনভি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক পরিচালক), লিলিয়া ভেলিকা (বইবিষয়ক ব্লগার), তেতিয়ানা বেরেজনা (ইউক্রেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ২০ লাখ, ১৩ লাখ, ১০ শতাংশ, ৩৫টিরও বেশি, ১ হাজার ৯০০, ২ হাজার, ১ কোটি ১২ লাখ, ২ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!