📌 একাত্তরের মার্চে টেলিভিশন কেন্দ্রের কর্মীরা পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তাঁরা ২৩ মার্চ রাত ১২টার পর অনুষ্ঠান চালিয়ে পাকিস্তান দিবস পালনের প্রতিবাদ করেছিলেন
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে টেলিভিশন কেন্দ্রের কর্মীরা তাঁদের পেশাদারি দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশের সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। মুস্তাফা মনোয়ারসহ টেলিভিশনের কর্মীরা তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে ২৩ মার্চের অনুষ্ঠান পরিচালনার মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুস্তাফা মনোয়ারসহ টেলিভিশনের কর্মীরা ১৯৭১ সালের মার্চে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় সাহসী ভূমিকা পালন করেন
- 📌 টেলিভিশন কেন্দ্রের কর্মীরা ২৩ মার্চ রাত ১২টার পর অনুষ্ঠান চালিয়ে পাকিস্তান দিবস পালনের প্রতিবাদ জানান
- 📌 অনুষ্ঠান ঘোষিকা মাসুমা খাতুনসহ কর্মীরা মিলিটারি কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন
- 📌 ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর টেলিভিশনে বাংলা সংস্কৃতির প্রতিফলন শুরু হয়
- 📌 অনুষ্ঠানগুলোতে বিশেষ ইফেক্টের মাধ্যমে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা প্রচার করা হতো
📰 বিস্তারিত
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে টেলিভিশন কেন্দ্রের কর্মীরা স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তাঁদের পেশাদারি দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশের সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। মুস্তাফা মনোয়ারসহ টেলিভিশনের কর্মীরা তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে ২৩ মার্চের অনুষ্ঠান পরিচালনার মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
মুস্তাফা মনোয়ার তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন, ১৯৬০ সালে আর্ট কলেজে চাকরি শুরু করে ১৯৬৪ সালে তিনি টেলিভিশনে যোগদান করেন। তখন টেলিভিশনের কর্মীরা ছিলেন মূলত সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষ। তাঁরা বাংলা সংস্কৃতির ওপর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর টেলিভিশনে নতুনভাবে অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয়। মার্চ মাসের শেষ দিকে টেলিভিশন কেন্দ্রের কর্মীরা বিশেষভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। মুস্তাফা মনোয়ার তাঁর অনুষ্ঠান 'দেশের গান'-এ বিশেষ ইফেক্টের মাধ্যমে দেখিয়েছিলেন হাজার মানুষ গান গাইছে। গানটি ছিল 'সংগ্রাম সংগ্রাম চলবে'। এছাড়া 'একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল' সহ বেশ কিছু দেশাত্মবোধক গান প্রচার করা হয়।
২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবস উপলক্ষে টেলিভিশনে অনুষ্ঠান পরিচালনার সময় কর্মীরা সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সকাল ১১টায় টেলিভিশনে যাওয়ার পথে মুস্তাফা মনোয়ার দেখেন সরকারি ভবনে পাকিস্তানি পতাকা উড়ছে। সে সময় অনুষ্ঠান শেষ হতো সাড়ে ৯টায়। মাসখানেক ধরে টেলিভিশন কেন্দ্রে ৫০-৬০ জন মিলিটারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনেই কর্মীরা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের পতাকা উড়ানো হতো। কিন্তু কর্মীরা তাঁদের পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠান চালিয়ে যান। রাত ১২টা পার হয়ে যাওয়ার পর মাসুমা খাতুন ঘোষণা করেন, 'আজ ২৪ মার্চ'। এরপর তাঁরা পেছনের দরজা দিয়ে অন্য জায়গায় চলে যান। মিলিটারি কর্মকর্তারা তাঁদের পরিকল্পনা বুঝতে পারেননি।
"আমাদের অনুষ্ঠান শেষ হলেই পাকিস্তানের পতাকা উড়ত। এ সময় হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি এল। আমরা সব স্টাফদের বাড়ি চলে যেতে বললাম এবং আমাদের গাড়ি ডিআইটি ভবনের বাইরে রাখা হলো। আমরা কয়েকজন ট্রান্সমিশন রুমে রয়ে গেলাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টেলিভিশন কেন্দ্র, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুস্তাফা মনোয়ার, মাসুমা খাতুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০-৬০ জন মিলিটারি কর্মকর্তা, ২৩ মার্চ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!