📌 ইসরাইলের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি আরবদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য বিশ্বের নজর কেড়েছে। এই ২০ লাখেরও বেশি নাগরিকদের উৎপত্তি, ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক অধিকার ও সামাজিক বৈষম্যের গল্প জানুন
ইসরাইলের সর্বশেষ নির্বাচনে ফিলিস্তিনি আরবদের অপ্রত্যাশিত সাফল্য বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এই নির্বাচনে যারা সাধারণত প্রান্তিক বলে বিবেচিত হতেন, তাদেরই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোটের সরকার গঠনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে: ইসরাইলের ভূখণ্ডে বসবাসকারী এই ফিলিস্তিনি আরবরা কে? তাদের সংখ্যা কত, ইতিহাস কী, এবং এক রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে তারা কি সমান অধিকার পায়?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৪৮ সালের নাকবা যুদ্ধে ১.৫ লাখ ফিলিস্তিনি ইসরাইলের ভূখণ্ডে থেকে যান, তাদেরকে 'ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক' বলা হয়
- 📌 বর্তমানে ইসরাইলে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি আরব বাস করে, যারা মোট জনসংখ্যার ২০-২১ শতাংশ
- 📌 ধর্মীয়ভাবে ৮৩% মুসলিম, ৯% খ্রিস্টান ও ৮% দ্রুজ সম্প্রদায়ের লোকেরা
- 📌 তারা পাসপোর্ট ও ভোটাধিকার পায়, কিন্তু 'জাতি-রাষ্ট্র আইন' তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে তুলেছে
- 📌 জমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামরিক সেবা ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য চলে আসছে
- 📌 গাজা যুদ্ধের পর এই নির্বাচনে তাদের ভোটের হার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে
📰 বিস্তারিত
১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় সংঘটিত যুদ্ধে (ফিলিস্তিনিদের 'নাকবা' নামে পরিচিত) প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি আরব ইসরাইলের ভূখণ্ডে থেকে যান। এই লোকদেরই 'ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক' বা 'ইসরাইলের আরব' বলা হয়। তারা পশ্চিম তীর বা গাজার ফিলিস্তিনিদের থেকে আলাদা, কারণ তারা ইসরাইলি পাসপোর্ট ধারণ করে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।
বর্তমানে ইসরাইলে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি আরব বাস করে, যারা মোট জনসংখ্যার ২০ থেকে ২১ শতাংশ। ধর্মীয়ভাবে এদের ৮৩ শতাংশ মুসলিম, ৯ শতাংশ খ্রিস্টান এবং ৮ শতাংশ দ্রুজ সম্প্রদায়ের লোক। তারা মূলত উত্তরাঞ্চলের গ্যালিলি অঞ্চল, মধ্যাঞ্চলের 'ট্রায়াঙ্গেল' এবং দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমিতে বসবাস করেন। কিছু অংশ হাইফা, জাফা ও একরের মতো মিশ্র শহরেও থাকেন।
তাদের রাজনৈতিক অধিকার হলেও বাস্তবে বৈষম্যের শিকার। ২০১৮ সালে পাস হওয়া 'জাতি-রাষ্ট্র আইন' ইসরাইলকে 'ইহুদি জনগণের রাষ্ট্র' ঘোষণা করে আরবি ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বাতিল করে। ফলে ফিলিস্তিনি আরবরা রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে পড়েন। জমি বাজেয়াপ্তকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বাজেটে বৈষম্য, এবং সামরিক সেবা থেকে ছাড়ের কারণে তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন।
"ইসরাইলের প্রতি ৫ জন নাগরিকের মধ্যে ১ জনই ফিলিস্তিনি আরব। তারা পাসপোর্ট ও ভোটাধিকার পেলেও, বাস্তবে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য চলে আসছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরাইল (গ্যালিলি, ট্রায়াঙ্গেল, নেগেভ, হাইফা, জাফা, একর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফিলিস্তিনি আরব সম্প্রদায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) ফিলিস্তিনি আরব, ৮৩% মুসলিম, ২০-২১% মোট জনসংখ্যা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!