📌 রাশিয়ার সামরিক অবরোধে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর দিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। উৎপাদিত শস্য বিক্রি করতে না পারায় অর্থসংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি আগামী বছরের ফসল উৎপাদনও হুমকির মুখে। বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
রাশিয়ার সামরিক অবরোধের কারণে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর দিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় দেশটির কৃষকেরা চরম অর্থসংকটে পড়েছেন। ভালো ফলন হওয়া সত্ত্বেও উৎপাদিত শস্য বিক্রি করতে না পারায় কৃষকদের আয় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এর ফলে শুধু চলতি মৌসুম নয়, আগামী বছরের ফসল উৎপাদনও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর দিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন
- 📌 দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ রপ্তানি আয় আসে কৃষি খাত থেকে, যা যুদ্ধকালীন অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
- 📌 ইউক্রেন বিশ্বের প্রায় ৬ শতাংশ গম এবং প্রায় ১১ শতাংশ ভুট্টা সরবরাহ করে
- 📌 কৃষক সেরহি রিবালকোর খামারে প্রতি মাসে প্রায় ২ কোটি হৃভনিয়া (৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪ ডলার) আয় প্রয়োজন
- 📌 ইউক্রেন বছরে প্রায় ৬ কোটি টন শস্য উৎপাদনের আশা করলেও রপ্তানি বন্ধ থাকায় তা সংরক্ষণাগারে জমে যাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের শুরুতে দক্ষিণ ইউক্রেনের একটি বড় অংশ দখলে চলে যাওয়ায় নিজের দুই-তৃতীয়াংশ জমি হারিয়েছিলেন কৃষক সেরহি রিবালকো। এবার রুশ হামলার কারণে সম্ভাবনাময় ফসলও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী বীজ উৎপাদক দেশ হলেও কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর দিয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়। কিন্তু রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ওই রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ইউক্রেনে গম কাটার মৌসুম সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলেও কৃষকদের কাছে উৎপাদিত শস্য বিক্রির কোনো গন্তব্য নেই বলে জানান রিবালকো। নিজের সাইলো বা গুদামে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘এই শস্য পাঠানোর মতো কোনো গন্তব্য নেই। কৃষকদের জন্য এটি সম্পূর্ণ বিপর্যয়।’ আগে তিনি ইউক্রেনের বড় শস্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নিবুলন এবং স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানায় শস্য বিক্রি করতেন। কিন্তু এখন কেউ শস্য কিনছে না বলে জানান তিনি।
ইউক্রেনের প্রধান কৃষক সংগঠন ইউক্রেনিয়ান অ্যাগ্রেরিয়ান কাউন্সিলের (ইউএসি) উপপ্রধান ডেনিস মার্চুক বলেন, ‘ইউক্রেন বিশ্বের প্রায় ৬ শতাংশ গম এবং প্রায় ১১ শতাংশ ভুট্টা সরবরাহ করে।’ সময়মতো সরবরাহ পৌঁছাতে না পারলে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু আমদানিনির্ভর দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এ বছর ইউক্রেন প্রায় ৬ কোটি টন শস্য উৎপাদনের আশা করছে, যা ২০২৫ সালের উৎপাদনের প্রায় সমান। কিন্তু কৃষকদের কাছে পরবর্তী বছরের ফসল নিয়ে আশাবাদ খুবই কম। রপ্তানি বন্ধ থাকলে পরবর্তী ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে কঠিন হবে বলে জানান মার্চুক।
‘জ্বালানি কেনা, শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া এবং শীতকালীন ফসলের বপনের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে এই অর্থের প্রয়োজন।’ — ডেনিস মার্চুক, উপপ্রধান, ইউক্রেনিয়ান অ্যাগ্রেরিয়ান কাউন্সিল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউক্রেন, রাশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সেরহি রিবালকো, ডেনিস মার্চুক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ শতাংশ, ৬০ শতাংশ, ৬ শতাংশ, ১১ শতাংশ, ৬ কোটি টন, ২ কোটি হৃভনিয়া, ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪ ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!